• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

এখনো বিপৎসীমার উপরে দুধকুমার, পানিবন্দি পাঁচ হাজার পরিবার


কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি  জুন ৩০, ২০২৬, ০১:২৬ পিএম
এখনো বিপৎসীমার উপরে দুধকুমার, পানিবন্দি পাঁচ হাজার পরিবার

ছবি : প্রতিনিধি

কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে উজানের ঢল ও ভারি বৃষ্টিপাত কমে নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করলেও দুধকুমার নদ এখনো বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে এবং জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

কুড়িগ্রামে উজানের ঢল ও ভারি বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি, কারণ দুধকুমার নদ এখনো বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে, যার ফলে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ৯টায় কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, জেলার প্রধান নদীগুলোর পানি কমলেও দুধকুমার নদ পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদী অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

অন্যদিকে ধরলা নদীর পানি কুড়িগ্রাম পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার এবং চিলমারী পয়েন্টে ৫৭ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা তুলনামূলকভাবে স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে দুধকুমার নদই এখনো উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দু। পাউবো তথ্য অনুযায়ী, নদটির পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমা ২৯ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার হলেও পানি তার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে ভূরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরী উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে।

বন্যার ফলে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকডাঙ্গা, ছিট পাইকেরছড়া, চর বলদিয়া এবং নাগেশ্বরী উপজেলার চরবিষ্ণুপুর, বালাবাড়ি, চর লুছনি ও ফান্দরচরসহ একাধিক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পাশাপাশি কালীগঞ্জ ইউনিয়নের ঢেবঢেবীর চর, কাঠগিরী ও কৃষ্ণপুর এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলি জমিও পানিতে তলিয়ে গেছে।

স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত পাঁচ হাজার পরিবার এখনো পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। অনেক গ্রামে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান জানান, দুধকুমার নদীর পানি বেড়ে মিয়াপাড়া ও মুড়িয়ারহাট এলাকায় বেড়িবাঁধ সড়ক ডুবে যায়, ফলে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। তার মতে, ৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ এখনো পানিবন্দি অবস্থায় আছেন।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, সোমবার বিকেল থেকে নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে দুধকুমার নদ এখনো বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। তিনি আরও জানান, মুড়িয়ারহাট এলাকায় ডুবে যাওয়া বেড়িবাঁধ এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে পানি প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি সহায়তা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, পানিবন্দি মানুষের জন্য নগদ ২ লাখ টাকা এবং ১১০০ প্যাকেট শুকনো খাবার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উজানের ঢল কমলেও নদ-নদীর পানি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে। ফলে নিম্নাঞ্চলের মানুষদের সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে।

পিএস

Link copied!