• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

আগৈলঝাড়া থানায় হামলার ঘটনায় ১৮ জন গ্রেপ্তার, অভিযান অব্যাহত


বরিশাল প্রতিনিধি জুলাই ১০, ২০২৬, ০১:৪৫ পিএম
আগৈলঝাড়া থানায় হামলার ঘটনায় ১৮ জন গ্রেপ্তার, অভিযান অব্যাহত

ছবি : প্রতিনিধি

বরিশাল: বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা সম্প্রতি সংঘটিত থানায় হামলার ঘটনায় জড়িত বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, হামলার ঘটনার পর থেকেই থানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রাতভর বিশেষ অভিযান চালিয়ে হামলায় জড়িত ১৮ জনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অন্যান্য অভিযুক্তদের শনাক্তের কাজ চলছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াও চলছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সন্ধ্যায় নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে চুরি, মাদকসহ একাধিক মামলার আসামি ফুল্লশ্রী গ্রামের বাসিন্দা রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে থানার হাজতে রাখা হয়।

থানা পুলিশের প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হাজতে থাকা অবস্থায় রিয়াজ ফকির নিজেই দেয়ালের সঙ্গে মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে রাত ১১টার দিকে তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে গভীর রাতে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার দুপুরে এলাকায় রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। বিকেলে কয়েকশ মানুষ মিছিল নিয়ে আগৈলঝাড়া থানার সামনে জড়ো হয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

হামলার সময় থানার ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিম মারধরের শিকার হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে পুলিশের ছয় সদস্যসহ অন্তত ১২ জন আহত হন।

আহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে এএসআই আব্দুল হালিম গুরুতর আহত হওয়ায় তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আল আমিন হোসেন ও মেহেদী হাসান আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে সংঘর্ষে রিয়াজ ফকিরের মা নাছরিন বেগম (৫০), বোন শারমিন আক্তার (২৮), মমতাজ বেগম (৪৭)সহ অন্তত ছয়জন আহত হন। তাদের মধ্যে কয়েকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, অন্যরা বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

রিয়াজ ফকিরের বাবা সিদ্দিক ফকির ও মা নাছরিন বেগম দাবি করেন, তাদের ছেলেকে অন্যায়ভাবে আটক করে পুলিশ নির্যাতন করেছে। তাদের অভিযোগ, ওই নির্যাতনের কারণেই রিয়াজ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি মো. মাসুদ খান বলেন, রিয়াজ ফকির থানার হাজতে নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করেছিলেন। বর্তমানে তিনি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।

Link copied!