• ঢাকা
  • সোমবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

সাবেক পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে গণধর্ষণের পর হত্যা, তাঁতিদল নেতা গ্রেফতার 


পিরোজপুর প্রতিনিধি অক্টোবর ৫, ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
সাবেক পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে গণধর্ষণের পর হত্যা, তাঁতিদল নেতা গ্রেফতার 

ছবি : প্রতিনিধি

পিরোজপুর: পিরোজপুরের কাউখালীতে নিজ ঘর থেকে অবসরপ্রাপ্ত সাবেক এক পুলিশ সদস্যের স্ত্রী জেসমিন বেগমের (৪৮) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় প্রধান আসামি জেলা তাঁতিদল নেতা মানিক হাওলাদারকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, জেসমিনকে ধর্ষণের পর হত্যা করে তার ঘরের আসবাবপত্র তছনছ এবং স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে ধর্ষণ ও হত্যার প্রকৃত কারণ তদন্ত এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিক্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৮) এর সদস্যরা মাদারীপুর জেলার সদর থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মানিককে গ্রেপ্তার করে। 

বরিশালের এসআরবি-৮ এর সহকারী পুলিশ সুপার ও মিডিয়া অফিসার ওয়ালিদ হাসান মিঠু আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
 
গ্রেফতার মানিক হাওলাদার পিরোজপুর জেলা জাতীয়তাবাদী তাঁতিদলের সাধারণ সম্পাদক। সে জেলার জিয়ানগর উপজেলার ভবানীপুর এলাকার বাসিন্দা। 

এ আগে রোববার সকালে উপজেলার শিয়ালকাঠি গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে জেসমিন বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওইদিন দিবাগত রাতে তিনি বাড়িতে একাই ছিলেন। সকালে স্বজনেরা বাড়ির পেছনের দরজা খোলা দেখতে পান। পরে ঘরে প্রবেশ করে আসবাবপত্র, আলমারি ও ওয়ারড্রবসহ বিভিন্ন মালামাল এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান তারা। জেসমিনকে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে ঘরের একটি কক্ষে তার মরদেহ দেখতে পান স্বজনেরা। ঘরের মেঝেও ভেজা অবস্থায় ছিল বলে তারা জানান।

নিহত জেসমিন বেগম একই গ্রামের মৃত আফজাল খানের বড় মেয়ে এবং অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য কেরামত আলীর স্ত্রী। কয়েক বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি ছোট মেয়েকে নিয়ে ওই বাড়িতে বসবাস করছিলেন।
 
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন তিনি বাড়িতে একাই ছিলেন। মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে রাতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানের দাফন করা হয়।

এদিকে নিহতের ভাই নাজির হোসেন অভিযোগ করেন, তার বোনকে গণধর্ষণের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার দাবি, প্রধান অভিযুক্তের কাছে জেসমিনের প্রায় ছয় লাখ টাকা পাওনা ছিল। হত্যার পর ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। 

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জেসমিনের একসময়ের ঘনিষ্ঠ ছিল প্রধান আসামি মানিক হাওলাদার। তবে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে জেসমিনের কিছুদিন ধরে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।

এ ব্যাপারে মৃত্যু জেসমিনের মেয়ে কাকন মনি তার মায়ের হত্যার বিচার দাবি করে বলেন, আমার মাকে যারা ধর্ষণ ও নির্যাতন করে হত্যা করেছে আমি সরকারের কাছে ন্যায়বিচার পাইতে তাদের ফাঁসি দাবি করছি বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। 

জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত বলেন, এই হত্যাকান্ডের আমরা বিচার চাই এবং মানিকের যদি এর সাথে সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় তাহলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

কাউখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক এবাদ আলী বলেন, ঘটনার পর পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাঁর নির্দেশনায় নেছারাবাদ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার প্রণয় রায় এবং কাউখালী থানার ওসি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের সহযোগিতায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, থানায় হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর জেসমিনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করতে পুলিশি কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

পিএস

সারাদেশ বিভাগের আরো খবর

Link copied!