ছবি : প্রতিনিধি
সাতক্ষীরা: ‘আমি নির্বাচিত হই বা না হই, কখনো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ছেড়ে যাইনি, ভবিষ্যতেও যাব না।’ আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সাতক্ষীরার আশাশুনি ও কালিগঞ্জ উপজেলার পূজামণ্ডপে সরকারি বরাদ্দের চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাতক্ষীরা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী আলাউদ্দীন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) আশাশুনি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে এবং কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে পৃথক অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। দুই উপজেলায় মোট ১৬১টি পূজামণ্ডপে প্রতিটিতে ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
কাজী আলাউদ্দীন বলেন, বর্তমান সরকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভোট ও সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেছে। তিনি নির্বাচনে বিজয়ী হতে না পারলেও এলাকার মানুষের পাশ থেকে সরে যাননি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নিজের নির্বাচনে পরাজয়ের প্রসঙ্গ তুলে কাজী আলাউদ্দীন বলেন, দলের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি ও বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে তিনি পরাজিত হয়েছেন। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উভয় প্রার্থীকে ডেকে তাঁকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন এবং অন্য প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে সেই আহ্বান উপেক্ষা করায় তাঁকে পরাজয় বরণ করতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কাজী আলাউদ্দীন আরও বলেন, ‘হিন্দু-মুসলমান আমরা সবাই ভাই ভাই।’ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার পর্যায়ক্রমে তৃণমূলের মানুষের কল্যাণে কাজ করছে। সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সবার দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেন তিনি।
কালিগঞ্জ উপজেলার মন্দিরগুলোর উন্নয়ন প্রসঙ্গে কাজী আলাউদ্দীন জানান, বর্তমান সরকারের মাধ্যমে ইতোমধ্যে উপজেলার ৪৬টি মন্দিরের উন্নয়নে বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাকি মন্দিরগুলোর উন্নয়নেও পর্যায়ক্রমে বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আগে প্রতিটি পূজামণ্ডপে ৫০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হতো। এবার প্রধানমন্ত্রী আরও ১০০ কেজি বাড়িয়ে প্রতিটি মণ্ডপে ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দিয়েছেন। এ ছাড়া হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের বরাদ্দের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও ৫ কোটি টাকা বাড়িয়েছেন বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
আশাশুনি উপজেলায় ১০৬টি এবং কালিগঞ্জ উপজেলায় ৫৫টি পূজামণ্ডপে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সে হিসাবে দুই উপজেলায় মোট ১৬১টি পূজামণ্ডপের জন্য ৯৬ হাজার ৬০০ কেজি বা ৯৬ দশমিক ৬ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ রয়েছে। অনুষ্ঠানে পূজামণ্ডপগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হাতে চালের ডিও (বরাদ্দপত্র) তুলে দেওয়া হয়।
বুধবার দুপুর ৩টায় আশাশুনি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু। এতে উপস্থিত ছিলেন আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীদুর ইসলাম, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি নীলকণ্ঠ সোম, সাধারণ সম্পাদক রনজিত বৈদ্য ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আবু জাহিদ সোহাগ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম।
অন্যদিকে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মফিজুর রহমান, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মাহাদি হাসান শিহাব, উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রনজিত সরকার ও সাধারণ সম্পাদক মিলন কুমার ঘোষ। এ ছাড়া দুই উপজেলার পূজামণ্ডপগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
পিএস







































