• ঢাকা
  • বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

রোদের তীব্রতা থেকে বাঁচতে এবং শরীর সতেজ রাখার উপায়


লাইফস্টাইল ডেস্ক অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ০৩:১৯ পিএম
রোদের তীব্রতা থেকে বাঁচতে এবং শরীর সতেজ রাখার উপায়

ফাইল ছবি

ঢাকা: প্রচণ্ড গরম ও তীব্র রোদে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। দীর্ঘ সময় রোদে থাকলে পানিশূন্যতা, অতিরিক্ত ক্লান্তি ও হিট এক্সহস্টশনের ঝুঁকি বাড়ে। গুরুতর অবস্থায় দেখা দিতে পারে হিটস্ট্রোক, যা জীবনহানির কারণও হতে পারে। তাই গরমের সময় সুস্থ ও সতেজ থাকতে পর্যাপ্ত পানি পান, উপযুক্ত পোশাক পরা এবং সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলাসহ কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

প্রচণ্ড রোদে নিজেকে সুস্থ রাখার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পর্যাপ্ত পানি পান করা। গরমের সময় শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে প্রচুর পানি বের হয়ে যায়, ফলে শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়ে। তাই দিনে কমপক্ষে ৮–১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত, এবং বাইরে থাকলে আরও বেশি পানি পান করতে হবে। শুধু পানি নয়, ডাবের পানি, লেবুর শরবত, ওআরএস কিংবা ফলের রসও শরীরের পানির ঘাটতি পূরণে সহায়ক। যারা বেশি ঘামেন, তাদের জন্য লবণ-চিনি মিশ্রিত পানীয় বিশেষভাবে উপকারী।

দিনের সবচেয়ে গরম সময় অর্থাৎ দুপুর ১১টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে বাইরে যাওয়া যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত। এই সময় সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি সবচেয়ে বেশি তীব্র থাকে, যা ত্বকের ক্ষতি করতে পারে এবং শরীরকে দ্রুত ক্লান্ত করে ফেলে। যদি একান্তই বাইরে যেতে হয়, তাহলে চেষ্টা করুন ছায়াযুক্ত পথ ব্যবহার করতে বা প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিয়ে বের হতে।

পোশাকের ব্যাপারেও সচেতন হওয়া জরুরি। গরমে সবসময় হালকা রঙের, ঢিলেঢালা এবং সুতির কাপড় পরা উচিত। সুতির কাপড় ঘাম শোষণ করে এবং শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। গাঢ় রঙের কাপড় তাপ বেশি শোষণ করে, ফলে শরীর আরও গরম হয়ে যায়। এছাড়া মাথা ঢাকার জন্য ক্যাপ বা টুপি ব্যবহার করা যেতে পারে, যা সরাসরি সূর্যের তাপ থেকে মাথাকে রক্ষা করবে।

বাইরে বের হলে ছাতা ব্যবহার করা একটি সহজ কিন্তু কার্যকর উপায়। এটি সরাসরি রোদ থেকে ত্বককে রক্ষা করে এবং শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা কম রাখে। পাশাপাশি সানগ্লাস ব্যবহার করলে চোখও সুরক্ষিত থাকে। অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকলে চোখে জ্বালা বা সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা এভাবে এড়ানো সম্ভব।

ত্বকের সুরক্ষার জন্য সানস্ক্রিন ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাইরে যাওয়ার অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে ভালো মানের সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করা যায়। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় বাইরে থাকেন, তাদের জন্য এটি অপরিহার্য।

খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। গরমের সময় তেল-ঝাল ও ভারী খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। এর পরিবর্তে হালকা ও সহজপাচ্য খাবার যেমন ভাত, ডাল, শাকসবজি, ফলমূল বেশি খাওয়া ভালো। তরমুজ, শসা, আনারস, পেঁপে ইত্যাদি ফল শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে এবং পানির ঘাটতি পূরণ করে। দই বা লাচ্ছিও শরীর ঠান্ডা রাখতে কার্যকর।

অতিরিক্ত পরিশ্রম এড়িয়ে চলা উচিত। প্রচণ্ড রোদে ভারী কাজ বা ব্যায়াম করলে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। যদি কাজ করতেই হয়, তাহলে মাঝেমধ্যে বিরতি নিন এবং ছায়াযুক্ত স্থানে বিশ্রাম করুন। অতিরিক্ত ক্লান্তি, মাথা ঘোরা বা বমি ভাব হলে সঙ্গে সঙ্গে বিশ্রাম নেওয়া জরুরি।

ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা গরমে সুস্থ থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ঘাম বেশি হলে শরীরে জীবাণু দ্রুত বৃদ্ধি পায়, যা বিভিন্ন ত্বকের সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই নিয়মিত গোসল করা, পরিষ্কার কাপড় পরা এবং ঘাম শুকনো রাখা প্রয়োজন। এতে শরীর সতেজ থাকবে এবং রোগের ঝুঁকিও কমবে। ঘরের পরিবেশ ঠান্ডা রাখা উচিত। ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন। প্রয়োজনে ফ্যান, এক্সহস্ট ফ্যান বা এয়ার কুলার ব্যবহার করতে পারেন। দিনে পর্দা টেনে রাখলে ঘরের ভেতর সরাসরি রোদ ঢোকা কমে এবং ঘর তুলনামূলক ঠান্ডা থাকে।

শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। তারা গরমে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। তাই তাদের নিয়মিত পানি পান করানো, রোদে কম বের করা এবং আরামদায়ক পরিবেশে রাখা অত্যন্ত জরুরি। শরীরের কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। অতিরিক্ত ঘাম, মাথা ঘোরা, দ্রুত হৃদস্পন্দন, ত্বক লাল হয়ে যাওয়া বা জ্ঞান হারানোর মতো লক্ষণ দেখা দিলে তা হিটস্ট্রোক এর ইঙ্গিত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত ঠান্ডা স্থানে নিয়ে যেতে হবে, পানি খাওয়াতে হবে এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

প্রচণ্ড রোদ থেকে বাঁচার জন্য খুব জটিল কিছু করতে হয় না কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চললেই যথেষ্ট। সচেতনতা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করলে গরমের সময়ও সুস্থ, সতেজ ও নিরাপদ থাকতে পারবেন ।

এসআই

Link copied!