• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

মেঘনায় নৌ-পুলিশ ও জেলেদের সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ হয়ে জেলে নিহত


বরিশাল প্রতিনিধি অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম
মেঘনায় নৌ-পুলিশ ও জেলেদের সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ হয়ে জেলে নিহত

ছবি : প্রতিনিধি

বরিশাল: বরিশালের হিজলা উপজেলায় মেঘনা নদীতে জেলেদের সঙ্গে অভিযানকারী দলের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে আকতার হোসেন হাওলাদার (৪০) নামে এক জেলে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চার জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আহতদের বিভিন্ন স্থানে গোপনে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোরে হিজলা উপজেলার গৌরবদী ইউনিয়নের শাওড়া অরাকুল মাছঘাট-সংলগ্ন মেঘনা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আকতার হোসেন হিজলা উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চর মেমানিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সুলতান হাওলাদারের ছেলে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত তাঁর মরদেহ হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৮ অক্টোবর) দিবাগত রাতে আকতার হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে যান। পরে ভোরের দিকে অভিযানকারী একটি দলের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন আকতার। তাঁকে প্রথমে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, মা ইলিশ সংরক্ষণে ২১ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলাকালে অভিযান ছিল ঢিলেঢালা। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার শেষ পর্যায়ে অভিযান পরিচালনার সময় গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই প্রয়োজন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, লক্ষ্মীপুরের রায়পুর-সংলগ্ন মেঘনা নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান চালানোর সময় জেলেদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। এ সময় আত্মরক্ষার্থে অভিযানকারী দলের ছোড়া গুলি আকতার হোসেনের বুকে লাগে। এতে আরও চার জেলে গুলিবিদ্ধ হন বলে তিনি জানান।

নিহতের বোন সাথী আক্তার স্থানীয় সংবাদকর্মীদের জানান, প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত জেলেদের কাছ থেকে তাঁরা জানতে পেরেছেন, কোস্ট গার্ড ও চাঁদপুর নৌ-পুলিশের গুলিতে তাঁর ভাই গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

তবে কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ঘটনার সময় মেঘনা নদীতে কোস্ট গার্ডের কোনো অভিযান চলছিল না। বরিশাল অঞ্চলের নৌ-পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, ওই রাতে নৌ-পুলিশের কোনো অভিযান ছিল না।

হিজলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কে এম মাহফুজুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে তিনি জেলের মৃত্যুর খবর পেয়েছেন। বুধবার রাতে তাঁদের কোনো অভিযানকারী দল মেঘনা নদীতে যায়নি। স্পিডবোট দুই দিন ধরে বিকল থাকায় ছোট ট্রলার নিয়ে গত দুই দিন সীমিত পরিসরে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অন্য কোনো জেলার অভিযানকারী দল সেখানে অভিযান চালিয়ে থাকতে পারে বলে তিনি জানান।

মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে কয়েকজন জেলে তাঁকে খবর দেন, মেঘনা নদীতে একজন জেলেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

তবে কে বা কারা গুলি করেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

নিহতের বোন সাথী আক্তার আরও জানান, তাঁদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ নেই। তাঁরা তাঁর ভাইয়ের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করতে চান।

বরিশাল হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান হোসেন জানান, পুরো ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পিএস

Link copied!