• ঢাকা
  • রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

আমের ফেলে দেওয়া খোসা থেকে চা তৈরি, তিন যুবকের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ


চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি নভেম্বর ১, ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
আমের ফেলে দেওয়া খোসা থেকে চা তৈরি, তিন যুবকের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

ছবি: প্রতিনিধি

আম খাওয়ার পর খোসা ফেলে দেওয়াই স্বাভাবিক নিয়ম। তবে ফেলে দেওয়া সেই আমের খোসাকে কাজে লাগিয়ে সুস্বাদু ও সুবাসিত ‘ম্যাংগো পিল টি’ বা আমের খোসার চা তৈরি করছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার তিন তরুণ উদ্যোক্তা। তাদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ একদিকে যেমন আমের বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করছে, অন্যদিকে তৈরি করছে নতুন কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা।

ভোলাহাট উপজেলার বজরাটেক গ্রামের তিন বন্ধু মো. মাইনুল ইসলাম, মো. মিঠু ও এ. বান্না মাসুম মিলে গড়ে তুলেছেন ‘সবুজ খাবার’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। তাদের সম্মিলিত উদ্যোগে আমের ফেলে দেওয়া খোসা থেকেই তৈরি হচ্ছে দুই ধরনের চা। এর মধ্যে রয়েছে ‘ম্যাংগো পিল গোল্ড টি’ ও ‘ম্যাংগো পিল ডার্ক টি’। উদ্যোক্তাদের মধ্যে মো. মাইনুল ইসলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী, মো. মিঠু একজন সরকারি চাকরিজীবী এবং এ. বান্না মাসুম একজন আইটি ব্যবসায়ী।

উদ্যোক্তারা জানান, তাদের এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে ২০২২ সালের একটি অভিজ্ঞতা। ওই বছর আমের বাজারে দরপতন ঘটায় অনেক কৃষক আম বিক্রি করতে না পেরে গবাদিপশুকে খাওয়াতে বাধ্য হন। আমচাষিদের এমন সংকট এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী আমশিল্পকে টিকিয়ে রাখার চিন্তা থেকেই তারা আম প্রক্রিয়াজাতকরণের উদ্যোগ নেন। প্রথমে ২০২২ সাল থেকে তারা শুকনো আম বা ড্রাই ম্যাংগো এবং আমের পাউডার তৈরি শুরু করেন। তবে ড্রাই ম্যাংগো তৈরির সময় বিপুল পরিমাণ আমের খোসা ফেলে দিতে হতো। সেই খোসাকে কাজে লাগানোর চিন্তা থেকে ইন্টারনেটে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে আমের খোসা দিয়ে চা তৈরির ধারণা পান তারা। পরীক্ষামূলকভাবে তৈরির পর সেটিই তাদের নতুন বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত হয়।

পণ্য তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি তৈরিতেও তারা নিজেদের দক্ষতা দেখিয়েছেন। আম শুকানোর জন্য চীন থেকে উন্নতমানের মেশিন আমদানি করতে প্রায় ১১ লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ হলেও, দেশীয় প্রযুক্তি ও নিজেদের উদ্ভাবনী দক্ষতায় তারা মাত্র ৫ লাখ টাকায় সমমানের মেশিন তৈরি করেন। ম্যাংগো পিল টি তৈরির প্রক্রিয়াটিও বেশ কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথমে ভালো মানের আম পরিষ্কার করে খোসা ছাড়ানো হয়। এরপর নিজেদের তৈরি মেশিনে চার থেকে পাঁচ দিন শুকানোর পর সেগুলো ব্লেন্ডার মেশিনে প্রক্রিয়াজাত করে চায়ের উপযোগী দানায় রূপান্তর করা হয়। ফুটন্ত গরম পানিতে এই চা মিশিয়ে সুগন্ধযুক্ত পানীয় তৈরি করা যায়।

উদ্যোক্তারা জানান, এক কেজি ম্যাংগো পিল টি তৈরি করতে প্রায় ১৪ কেজি আমের খোসার প্রয়োজন হয়। বর্তমানে প্রতি কেজি ‘ম্যাংগো পিল গোল্ড টি’ চার হাজার টাকা এবং ‘ম্যাংগো পিল ডার্ক টি’ দুই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে গোল্ড টি ক্রেতাদের কাছে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি ‘সবুজ খাবার’ নামের ফেসবুক পেজের মাধ্যমে অনলাইনে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই চা পৌঁছে যাচ্ছে। শুধু ম্যাংগো পিল টি বিক্রি করেই বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আয় করছেন তারা।

এই উদ্যোগে আমের প্রায় পুরো অংশকেই বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে। আম থেকে ড্রাই ম্যাংগো ও পাউডার এবং ফেলে দেওয়া খোসা থেকে চা তৈরির ফলে আমের অপচয় কমার পাশাপাশি নতুন একটি পণ্যের বাজার তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও এই চা বেশ আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

এ বিষয়ে ভোলাহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সুলতান আলী বলেন, আমের ফেলে দেওয়া অংশ থেকে তৈরি এই ম্যাংগো টি সত্যিই প্রশংসনীয়। এ ধরনের উদ্যোক্তাদের পাশে কৃষি অফিস সবসময় আছে এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

এসএইচ 

Link copied!