• ঢাকা
  • রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

সাজেকে ফের গোলাগুলি, আতঙ্কে বাসিন্দারা


রাঙামাটি প্রতিনিধি নভেম্বর ১, ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম
সাজেকে ফের গোলাগুলি, আতঙ্কে বাসিন্দারা

ফাইল ছবি

রাঙামাটির সাজেকের লাঙ্গলমারা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিকেল চারটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে গুলিবিনিময় হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সাজেকের গঙ্গারামের জুরজুড়ি ছড়ার পাশের লাঙ্গলমারা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে এ গোলাগুলি হয়। এর আগের দিন শনিবারও সাজেকের মাচলং এলাকার দুর্গম কলাবুনিয়া ও ভাঙ্গামুড়া এলাকায় জেএসএস ও ইউপিডিএফের মধ্যে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

তবে এসব ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে দুই সংগঠনই। ইউপিডিএফের মুখপাত্র অংগ্য মারমা দাবি করেন, তাঁদের কোনো সশস্ত্র সংগঠন নেই। সাজেকে চলমান আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

জেএসএসের কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার বিভাগের সহসম্পাদক সজীব চাকমাও তাঁর দলের কোনো সশস্ত্র গ্রুপ নেই বলে দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, জেএসএস এ গোলাগুলিতে জড়িত নয়। ইউপিডিএফের সশস্ত্র তৎপরতার বিরুদ্ধে স্থানীয় লোকজন প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন।

সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পরিচয় চাকমা বলেন, জুরজুড়ি ছড়া ও লাঙ্গলমারা সীমানা এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলি হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, লাঙ্গলমারা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলি হয়েছে। তবে বর্তমানে গোলাগুলি বন্ধ রয়েছে।

পাঁচ দফা দাবিতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা টানা ১০ দিনের সড়ক অবরোধ রোববার সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত শিথিল ছিল। তবে অন্য একটি সংগঠনের ডাকা অবরোধের প্রভাবে সাজেক সড়কে বড় যানবাহন চলাচল করেনি। সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলেছে।

গত ২২ অক্টোবর থেকে বিভিন্ন দাবিতে থেমে থেমে সড়ক অবরোধ করে আসছিল সংগঠন দুটি। শুক্রবার তাদের নেতা বাবুধন চাকমা ও নতুনজয় চাকমা এক বার্তায় রোববার অবরোধ শিথিলের ঘোষণা দেন। সাজেকের সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মাসব্যাপী কঠিন চীবর দান উৎসবের কথা বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে সোমবার থেকে আগের মতো অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ চলবে বলে জানানো হয়েছে।

সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন বলেন, খাগড়াছড়িতে একটি সংগঠনের ডাকা অবরোধের কারণে সাজেক সড়কে ছোট যানবাহন চললেও বড় যানবাহন চলাচল করেনি।

এর আগে ২৬ অক্টোবর পরিস্থিতি নিরসনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে উজোবাজারে বৈঠক করেন খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে চারটি মেনে নেয় প্রশাসন। তবে বাকি একটি দাবি নিয়ে মতপার্থক্য থাকায় বৈঠকটি অমীমাংসিতভাবে শেষ হয়। এরপর পরিস্থিতি নিরসনে নতুন করে আলোচনার কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

এসএইচ 

Link copied!