ফাইল ছবি
অবলুপ্ত পাইওনিয়ার ব্যাংক লিমিটেডের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার খেওড়া মৌজায় নিলামে বিক্রি হওয়া ৩৭৩ শতাংশ জমির মধ্যে ২৬৮ শতাংশের মালিকানা হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল রোববার (১ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে কমিশনের মাধ্যমে ১১ জন ক্রেতার কাছে জমির রেজিস্ট্রেশন ও হস্তান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গভর্নর। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডেপুটি গভর্নর-১ ও ডেপুটি গভর্নর-২।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৭ সালের ২৬ জুলাই হাইকোর্ট বিভাগের আদেশে ১৭টি অবলুপ্ত ব্যাংকের Official Liquidator হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৮ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্টের নির্দেশনার ৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী, এসব ব্যাংকের সম্পদ বিক্রি ও তহবিল ব্যবস্থাপনাসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় Official Liquidator-কে।
এরই ধারাবাহিকতায় অবলুপ্ত পাইওনিয়ার ব্যাংকের নামে থাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার খেওড়া মৌজার ৩৭৩ শতাংশ জমি বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত ৩১ জানুয়ারি উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে জমিটি বিক্রি করা হয়। নিলাম কার্যক্রম পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক নিয়োজিত একজন যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ। এতে সর্বোচ্চ দরদাতারা জমিটি কেনার সুযোগ পান।
তবে নিলামের পর কয়েকজন দখলদার বিক্রি হওয়া জমির মধ্য থেকে ১০৫ শতাংশের মালিকানা নিয়ে মামলা করেন। ফলে পুরো জমির রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম আটকে যায়।
এ পরিস্থিতিতে মামলাধীন ১০৫ শতাংশ জমি বাদ দিয়ে অবশিষ্ট ২৬৮ শতাংশ জমি ক্রেতাদের নামে রেজিস্ট্রেশন করে দেওয়ার জন্য হাইকোর্টের অনুমতি চাওয়া হয়। গত ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে হাইকোর্ট বিভাগ ওই জমির রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে কমিশনের মাধ্যমে ১১ জন ক্রেতার কাছে ২৬৮ শতাংশ জমি হস্তান্তর করা হয়।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে অবলুপ্ত ব্যাংকের পড়ে থাকা সম্পদ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। তবে বাকি ১০৫ শতাংশ জমি নিয়ে চলমান মামলার নিষ্পত্তি হলে ওই জমির মালিকানা ও বিক্রির বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
এসএইচ







































