ছবি: সংগৃহীত
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে রাজধানীর মিরপুর, সাভার ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলন করছেন পোশাকশ্রমিকেরা। এই আন্দোলন ঘিরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের তৎপরতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। আন্দোলনে অনুপ্রবেশ, সংঘর্ষে উসকানি ও নাশকতার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১১ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
রোববার (১ নভেম্বর) ডিবির মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খান গ্রেপ্তারের তথ্য জানান। তাঁর দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বরিশাল, পটুয়াখালী, কক্সবাজার ও গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন জেলার আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী। তাঁদের মধ্যে দুজনের নাম রাকিব ও আরিফ বলে জানা গেছে। বাকিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, ঢাকা-১৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহর ভাগ্নে আলিফ মোল্লাহ বিভিন্ন জেলা থেকে নেতাকর্মীদের ঢাকায় নিয়ে এসেছেন বলে তাঁদের কাছে তথ্য রয়েছে। নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে শতাধিক নেতাকর্মীর উপস্থিতির তথ্যও পেয়েছে পুলিশ।
মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার আবু নাসের রিকাবদার আরও ১৭ জনকে আটকের কথা জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, আটক ব্যক্তিরা নাশকতার পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের হয়ে মিছিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
মিরপুরের শ্রমিক আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজবুল ইসলামের অংশগ্রহণের তথ্য সামনে এসেছে। রোববার সকাল থেকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আন্দোলনের একাধিক ছবি প্রকাশ করেছেন তিনি। একটি পোস্টে নিজেকে শ্রমিক বলেও উল্লেখ করেন। তাঁর ফেসবুক পরিচিতিতে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদটির উল্লেখ রয়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক কয়েকটি ফেসবুক পেজ ও গ্রুপেও তাঁর আন্দোলনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একটি পেজের দাবি, সাজবুল এখন পোশাকশ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন এবং আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁনও শ্রমিক আন্দোলনে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন। রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একাধিক পোস্টে তিনি দাবি করেন, গার্মেন্টসকর্মী পরিচয়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনে নেমেছেন। মিরপুরে সাজবুল ইসলাম আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রাশেদ খাঁনের অভিযোগ, আন্দোলনকে উসকে দিয়ে রাষ্ট্র অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। ডিসেম্বরকে সামনে রেখে আরও আন্দোলন গড়ে তোলার অপচেষ্টা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর পোস্টে জামায়াত ও এনসিপির বিরুদ্ধেও আন্দোলনে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়।
৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মাসিক মজুরির দাবিতে কয়েক দিন ধরেই মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করছিলেন পোশাকশ্রমিকেরা। রোববার সকাল থেকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর অবরোধের মধ্য দিয়ে নতুন করে আন্দোলন শুরু হয়। পরে মিরপুর-১১, ১২ ও আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
সকাল থেকে সড়কে অবস্থান নেওয়া শ্রমিকদের সঙ্গে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। কয়েক দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে দুপুর পর্যন্ত। একপর্যায়ে মিরপুর-১০ এলাকায় পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং একটি পুলিশ বক্স ভাঙচুর করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। এ সময় মিরপুর-১০, ১১ ও পল্লবী মেট্রোরেল স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টার অবরোধ ও সংঘর্ষে মিরপুরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। পরে ২০২৬ সালের ৮ এপ্রিল জাতীয় সংসদে সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইন পাসের মাধ্যমে এ নিষেধাজ্ঞা আইনি ভিত্তি পায়। দলটির নিবন্ধনও স্থগিত রয়েছে। এর মধ্যে দলটির প্রধান ও ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। এ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসএইচ







































