চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চলচ্চিত্রের খলনায়ক আশরাফুল হক ডনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বের করে আনা, সম্ভাব্য সহযোগীদের শনাক্ত করা এবং তার বিদেশে যাওয়ার চেষ্টার পেছনের কারণ জানতে রিমান্ড প্রয়োজন বলে আদালতে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা।
সিআইডির ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মজিবুর রহমান গত ২০ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ আবেদন করেন। আসামির উপস্থিতিতে রিমান্ড আবেদনের শুনানির জন্য আজ ২৭ আগস্ট দিন ধার্য রয়েছে।
যে তিন কারণে রিমান্ড চায় সিআইডি
রিমান্ড আবেদনে সিআইডি বলেছে, সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত। ১৯৯৬ সাল থেকেই তার মা নীলা চৌধুরী ছেলের মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে ডনকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে মনে করছে তদন্ত সংস্থা।
দ্বিতীয়ত, ডনকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য সহযোগীদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া এবং তাদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হতে পারে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে সিআইডি।
তৃতীয়ত, বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও ডন কীভাবে, কেন এবং কার ইন্ধনে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেছিলেন, সে বিষয়ে তথ্য জানতে চায় তদন্ত সংস্থা। এসব তথ্য মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছে সিআইডি।
বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার, জামিনও মেলেনি
গত ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওইদিনই তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
১২ আগস্ট ডনের জামিন আবেদন করা হলে তা নামঞ্জুর হয়। এরপর ২৫ আগস্ট দায়রা আদালতেও তার জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়।
৩০ বছর পর হত্যা মামলা
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নিজ বাসায় মারা যান জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ। তার মৃত্যুর ঘটনায় প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা করেন বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরের বছর ছেলের মৃত্যুকে হত্যা দাবি করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে নেওয়ার আবেদন করেন তিনি।
১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর সিআইডি আদালতে দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করে। পরে ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন মামলা করেন তার বাবা।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ বাদীপক্ষের রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর।
মামলায় সালমান শাহের স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, আশরাফুল হক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
কবর থেকে দেহাবশেষ উত্তোলনের উদ্যোগ
মামলার তদন্তে সালমান শাহের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তার মরদেহের দেহাবশেষ উত্তোলনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। গত ২০ মে তদন্ত কর্মকর্তা এ বিষয়ে আবেদন করেন। পরে ২৪ মে আদালত দেহাবশেষ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি এবং ময়নাতদন্তের অনুমতি দেন।
তবে বাদীপক্ষ দেহাবশেষ উত্তোলনের আদেশ বাতিলের আবেদন করে। পরে ২২ জুন দেহাবশেষ উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
সালমান শাহ হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট দিন ধার্য রয়েছে। এর আগে আজ ডনের রিমান্ড আবেদনের ওপর আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
এম

























original1787417799-20260822173831.jpg)













