• ঢাকা
  • বুধবার, ০৭ জানুয়ারি, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

জানুয়ারির মধ্যেই পে-স্কেলের সুপারিশ, সুখবর দিল কমিশন


নিজস্ব প্রতিবেদক ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫, ০৫:০৮ পিএম
জানুয়ারির মধ্যেই পে-স্কেলের সুপারিশ, সুখবর দিল কমিশন

ফাইল ছবি

নবম জাতীয় পে-স্কেলের সুপারিশ জমা দেওয়ার সম্ভাব্য সময়সীমা জানিয়েছে জাতীয় বেতন কমিশন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী মধ্য জানুয়ারির মধ্যেই কমিশন তাদের সুপারিশ সরকারে জমা দিতে পারে। এর আগেও রিপোর্ট জমা দেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করা হয়নি।

পে-কমিশনের একটি সূত্র জানায়, নবম পে-স্কেলের গ্রেড সংখ্যা, সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন নির্ধারণসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এসব অমীমাংসিত বিষয় নিষ্পত্তির জন্য আরও অন্তত দুটি পূর্ণ কমিশন সভা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সভাগুলোতে সব সদস্যের মতৈক্য হলে তবেই চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতীয় বেতন কমিশনের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য বলেন, মধ্য জানুয়ারির মধ্যে সুপারিশ জমা দেওয়ার একটি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রয়োজনে এর আগেই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হতে পারে। পূর্ণ কমিশনের আরেকটি সভা অনুষ্ঠিত হলে নির্দিষ্ট তারিখ জানানো সহজ হবে।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন গ্রেড নিয়ে কমিশনের ভেতরে তিন ধরনের চিন্তা চলছে। বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ২০টি গ্রেড বিদ্যমান। কমিশনের একাংশ মনে করছে, গ্রেড সংখ্যা অপরিবর্তিত রেখে যৌক্তিক হারে বেতন ও ভাতা বাড়ানোই বাস্তবসম্মত। তবে কমিশনের আরেক অংশ এই প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছে। তাদের মতে, গ্রেড সংখ্যা ২০ থেকে কমিয়ে ১৬ করা উচিত।

আবার কমিশনের একটি অংশ আরও এক ধাপ এগিয়ে গ্রেড সংখ্যা ১৪টিতে নামিয়ে আনার পক্ষে মত দিচ্ছে। তাদের যুক্তি, গ্রেড বেশি থাকলে বেতন বৈষম্য বাড়ে, তাই কম গ্রেডে বেতন কাঠামো নির্ধারণ করলে বৈষম্য তুলনামূলকভাবে কম হবে।

পে-কমিশনের এক সদস্য জানান, গ্রেড সংখ্যা আগের মতো থাকবে নাকি কমানো হবে—এ বিষয়ে এখনো ঐকমত্য হয়নি। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের কমিশন সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। গ্রেড সংখ্যা চূড়ান্ত করতে হলে কমিশনের সব সদস্যের সম্মতি প্রয়োজন হবে।

এদিকে নবম পে-স্কেল নিয়ে বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠন থেকে পাওয়া মতামতগুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করছে কমিশন। তবে এখনো পুরো প্রতিবেদন লেখার কাজ শুরু করা যায়নি। সোমবার কমিশনের একটি সূত্র জানায়, সরকারি কর্মচারীদের সাম্প্রতিক মহাসমাবেশ বা ঘোষিত কঠোর কর্মসূচিতে কমিশন বিচলিত নয়। তারা বাস্তবসম্মত ও টেকসই একটি বেতন কাঠামোর সুপারিশ তৈরিতে মনোযোগী।

সূত্র জানায়, প্রতিটি সংস্থা, দপ্তর ও সংগঠন থেকে পাওয়া প্রস্তাব খুঁটিয়ে পর্যালোচনা করে লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া শেষ হতে আরও কিছু সময় লাগবে।

উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে গত জুলাই মাসে অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশনের জন্য ছয় মাসের মধ্যে সুপারিশ জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে কর্মচারীদের একটি অংশের দাবি, নতুন পে-স্কেলের গেজেট আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রকাশ করা উচিত।

নবম পে-স্কেল ঘিরে তাই এখন প্রশ্ন একটাই—গ্রেড কমবে নাকি বাড়বে বেতন বৈষম্য না কমিয়ে, আর শেষ পর্যন্ত সরকার কোন সুপারিশ গ্রহণ করে বাস্তবায়নের পথে হাঁটে।

এসএইচ 

Wordbridge School
Link copied!