নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে দীর্ঘ ১১ বছর ধরে নতুন কোনো পে-স্কেল না পাওয়ায় সরকারি কর্মচারীরা ঋণের জালে জর্জরিত হয়ে পড়েছেন বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। আসন্ন বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রেখে শতভাগ মূল বেতনসহ ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি খোলা চিঠি দিয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক আবদুল মালেক।
চিঠিতে বলা হয়েছে, নিয়মানুযায়ী দীর্ঘ ১১ বছরে সরকারি কর্মচারীদের দুটি পে-স্কেল পাওয়ার কথা থাকলেও তাঁরা একটিও পাননি। ফলে ২০১৫ সালের বেতন কাঠামো দিয়ে ২০২৬ সালের এই অগ্নিমূল্যের বাজারে কর্মচারীদের পক্ষে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় বেতন কমিশন সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি-২০২৫ বরাবর পাঠানো স্মারকলিপির সূত্র ধরে খোলা চিঠিতে বলা হয়, প্রতি বছর ধাপে ধাপে দ্রব্যমূল্য বাড়লেও কর্মচারীদের বেতনের কোনো মৌলিক পরিবর্তন হয়নি। উল্টো দুই-তিন বছর আগেই অসংখ্য কর্মচারী তাঁদের নিজ নিজ গ্রেডের বেতনের শেষ ধাপে পৌঁছে গেছেন। পরবর্তী কোনো ধাপ না থাকায় তাঁদের বাৎসরিক ইনক্রিমেন্টও সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
কর্মচারীদের পারিবারিক সংকটের চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, বর্তমানে প্রতিটি কর্মচারী ঋণের দায়ে জর্জরিত। প্রভিডেন্ট ফান্ড কিংবা ব্যাংক থেকে একাধিক লোন নেওয়ার পর, প্রতি মাসে কিস্তির টাকা কেটে যা অবশিষ্ট থাকে, তা দিয়ে ১০ থেকে ১৫ দিনও সংসার চলে না। এমতাবস্থায় পরিবার চালানোই এখন দায় হয়ে পড়েছে।
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের উৎসব উদযাপনের করুণ চিত্রও চিঠিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়, গত ১১ বছরে ২২টি ঈদ সরকারি কর্মচারীরা কেবল পুরনো কাপড়চোপড় পরেই পার করেছেন। একজন সাধারণ কর্মচারী মাত্র ৮ থেকে ১২ হাজার টাকা ঈদ বোনাস পান। এই সামান্য টাকা দিয়ে বর্তমান বাজারে কোরবানির গরুর অংশীদার হওয়া তো দূরের কথা, স্বপ্নে ভাবাও যায় না।
এর ফলে ঈদ উৎসবে নিজের আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী এবং স্ত্রী-সন্তানদের কাছে কর্মচারীদের মাথা নিচু করে থাকতে হয়, যা প্রজাতন্ত্রের সেবক হিসেবে অত্যন্ত লজ্জাজনক বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
২২ লাখ সরকারি কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের সম্মান রক্ষার্থে রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে সমিতি। আসন্ন বাজেটে ৯ম পে-স্কেল শতভাগ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে বলা হয়, প্রয়োজনে ভাতাগুলো রাষ্ট্রীয় আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে দুই ভাগে বিভক্ত করে দেওয়া হোক, তাতেও কর্মচারীদের আপত্তি নেই। পে-স্কেল বাস্তবায়নে যত দেরি হবে, দ্রব্যমূল্য তত বেশি বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
আসন্ন বাজেটের আগেই সরকারের পক্ষ থেকে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে এবং এর মাধ্যমে লাখো কর্মচারী অঙ্গনে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতি।
এম







































