• ঢাকা
  • বুধবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২২, ১৩ মাঘ ১৪২৮

‘ওমিক্রন’ আক্রান্ত একজন চিকিৎসকের অভিজ্ঞতা


নিউজ ডেস্ক ডিসেম্বর ২, ২০২১, ০৯:৪০ পিএম
‘ওমিক্রন’ আক্রান্ত একজন চিকিৎসকের অভিজ্ঞতা

ঢাকা: করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ‘ওমিক্রন’ ইসরায়েলে প্রথম শনাক্ত হয় গত শনিবার (২৭ নভেম্বর)। এই ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হন দেশটির চিকিৎসক এলাড মাওর। আক্রান্ত হওয়ার আগে পর্যন্ত তিনি ডজন ডজন রোগী দেখেছেন, মিশেছেন শত শত মানুষের সঙ্গে। এলাড মাওর প্রাথমিকভাবে আশঙ্কা করছিলেন, হয়তো এই ভ্যারিয়েন্ট ইতোমধ্যে শত শত মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।

পজিটিভ হওয়ার তিন দিন আগে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মাওর তেল আবিবে তার হাসপাতালের বিশালসংখ্যক কর্মীর সঙ্গে এক বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। পরে ১০ জন রোগীর ধমনীতে স্টেন্ট প্রবেশ করান তিনি। সেখান থেকে তেল আবিবের উত্তরাঞ্চলে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের এক সম্মেলনে চলে যান তিনি।

একই গাড়িতে ৭০ বছর বয়সী এক সহকর্মীর সঙ্গে ৯০ মিনিটের পথ পেরিয়ে সম্মেলনে যান। সেখানে পৌঁছে জনাকীর্ণ ক্যান্টিনে আরও পাঁচজনের সাথে দুপুরের খাবার সারেন।

৪৫ বছর বয়সী মাওর কয়েক ডজন দর্শকের সাথে একক সংগীতানুষ্ঠানে অংশ নেন। ওই অনুষ্ঠানে তার ১৩ বছর বয়সী সন্তানও পিয়ানো বাজায়। শেষে গত শুক্রবার রাতে ডা. মাওর তার শ্বশুর বাড়িতে, স্ত্রী এবং পরিবারের অন্য ৯ জন সদস্যকে সাথে নিয়ে সামুদ্রিক খাবার খান।

কিন্তু এত সব মানুষের মাঝে; যাদের বেশিরভাগই ফাইজার-বায়োএনটেক ভ্যাকসিনের তিনটি করে ডোজ পেয়েছিলেন—শুধুমাত্র তার ৭০ বছর বয়সী সহকর্মীর ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে। সেটিও হয়েছে তেল আবিবের সম্মেলন থেকে ফেরার পাঁচদিন পর।

ভাইরাসটি পরীক্ষায় ধরা পড়তে বেশ কয়েকদিন লেগে যাওয়ায় আক্রান্তের সেই সংখ্যা এখনও বাড়তে পারে। এছাড়া তার সংস্পর্শে আসা সবার করোনা এখনও পরীক্ষা করা হয়নি। তেল আবিবে ডা. মাওর শেবা মেডিক্যাল সেন্টারে ইতোমধ্যে কমপক্ষে ৫০ জনের পিসিআর পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত ১০ জনের তিনবার করে পরীক্ষা করা হয়।

এসব পরীক্ষার প্রাথমিক ফলাফল ইসরায়েলের অন্যতম নেতৃস্থানীয় করোনা ল্যাবরেটরি শেবা মেডিক্যাল সেন্টারের সংক্রামক ব্যাধি বিশেষজ্ঞদের সতর্কভাবে আশান্বিত করেছে যে, যাদের টিকার তিনটি করে ডোজ দেওয়া হয়েছে তাদের জন্য ওমিক্রন তেমন ঝুঁকিপূর্ণ নাও হতে পারে; যেমনটি প্রথম দিকে আশঙ্কা করা হয়েছিল।

ডা. মাওর গত সপ্তাহে অনেক মানুষের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন, যাদের প্রায় সবাই স্বাস্থ্যসেবা কর্মী অথবা তাদের পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্য। তিনি যেসব মানুষের সাথে বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন তাদের বেশিরভাগই টিকার পূর্ণ ডোজ নেওয়া এবং সম্প্রতি তারা বুস্টার ডোজও নিয়েছেন।

শেবা মেডিক্যালের সংক্রামক ব্যাধি ও মহামারি শাখার পরিচালক অধ্যাপক গিলি রিজেভ-ইয়োচে বলেছেন, বিচ্ছিন্ন ঘটনায় খুব বেশি পূর্বানুমান না করাটাই গুরুত্বপূর্ণ। ওই হাসপাতালে করোনাভাইরাসের গবেষণায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধ্যাপক গিলি।

তিনি বলেন, ‘এসব ঘটনা কিছু ক্ষেত্রে আমাদের বলছে যে, আপনি যদি টিকা নিয়ে থাকেন, তাহলে ওমিক্রন আপনার জন্য ততটা সংক্রামক নয়। আমি মনে করি, এটাই বড় বিষয়।’

নিজ বাসায় আইসোলেশনে আছে ডা. মাওর। টিকার পূর্ণ ডোজ নেওয়া এই চিকিৎসককে করোনা কিছুটা কাবু করেছে। অধূমপায়ী এবং দীর্ঘমেয়াদী কোনো রোগ নেই তার। তারপরও শনিবার এবং রোববার জ্বর, গলা ব্যথা ও পেশীর ব্যথা নিয়ে বিছানায় কাটিয়েছেন তিনি। বুধবার দুপুরের পর থেকে তুলনামূলক ভালো বোধ করতে শুরু করেছেন।

টেলিফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডা. মাওর বলেছেন, ‘সবকিছু সত্ত্বেও, ভ্যাকসিন এবং বুস্টার ডোজ নেওয়া সত্ত্বেও, আমি ৪৮ ঘণ্টা শয্যাশায়ী ছিলাম। আমার যদি ভ্যাকসিন না নেওয়া থাকতো, তাহলে শেষ পর্যন্ত হয়তো আমাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হতো।’

অধ্যাপক গিলি রিজেভ-ইয়োচে বলেছেন, ডা. মাওরের এই ঘটনা দেখিয়েছে যে, দেশে আসা প্রত্যেককে প্রতি পাঁচদিন সকালের দিকে করোনা পরীক্ষা করাতে হবে। লোকজনকে সতর্ক হতে হবে। দৈনিক-ভিত্তিতে এই পরীক্ষা করাতে হবে।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

সোনালীনিউজ/আইএ

Haque Milk Chocolate Digestive Biscuit
Wordbridge School
Sonali IT Pharmacy Managment System