• ঢাকা
  • রবিবার, ০১ মার্চ, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

ইরান ইস্যুতে বিশ্ব বিভক্ত: কে কার পাশে দাঁড়ালো


আন্তর্জাতিক ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬, ১০:৫১ পিএম
ইরান ইস্যুতে বিশ্ব বিভক্ত: কে কার পাশে দাঁড়ালো

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্পষ্ট মেরুকরণ দেখা দিয়েছে। সামরিক পদক্ষেপকে ঘিরে শক্তিধর দেশগুলো ও বৈশ্বিক জোটগুলোর অবস্থান এখন দুই ভাগে বিভক্ত—সমর্থন ও নিন্দায়।

পশ্চিমা জোটের সতর্ক সমর্থন
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটো জানিয়েছে, তারা ইরান ও আশপাশের অঞ্চলের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। যদিও জোট সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততার ঘোষণা দেয়নি, তবে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে ‘আর্টিকেল ৫’ কার্যকর থাকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।

ইউরোপের প্রভাবশালী তিন দেশ—যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি—সামরিক হামলায় সরাসরি অংশ না নিলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছে। একইসঙ্গে তারা ইরানকে পাল্টা উত্তেজনা না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে এবং সংলাপে ফেরার ওপর জোর দিয়েছে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা জরুরি। একই অবস্থান নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ।

রাশিয়ার তীব্র প্রতিক্রিয়া
অন্যদিকে, হামলাকে ‘উসকানিবিহীন আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়ে কড়া নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিক সামরিক অভিযান বন্ধ করে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, পারমাণবিক কর্মসূচিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে শাসন পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে, যা আঞ্চলিক মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও ভিন্নমত
এই হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও বিতর্ক শুরু হয়েছে। মার্কিন সিনেটর এডওয়ার্ড জে. মার্কি অভিযোগ করেছেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই নেওয়া এই সামরিক পদক্ষেপ অবৈধ এবং তা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের উদ্বেগ
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। মিশর সতর্ক করেছে, সামরিক উত্তেজনা পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিতে পারে এবং সংলাপকেই একমাত্র সমাধান হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এদিকে জর্ডান জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমা লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে—যা সংঘাতের আঞ্চলিক বিস্তারের আশঙ্কা আরও বাড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
জাতিসংঘ-এর মানবাধিকার প্রধান সামরিক হামলা ও পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যেকোনো সংঘাতে শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বেসামরিক মানুষ।

সব মিলিয়ে, ইরানকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক রাজনীতিতে এখন স্পষ্ট বিভাজন তৈরি হয়েছে। এক পক্ষ নিরাপত্তার যুক্তি তুলে ধরছে, অন্য পক্ষ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে। পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে কূটনৈতিক তৎপরতা ও সামরিক হিসাব-নিকাশের ওপর।

এম

Wordbridge School
Link copied!