• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

ইরানের হামলায় কাতারের গ্যাস উৎপাদন বন্ধ, সরাসরি চাপে বাংলাদেশ


আন্তর্জাতিক ডেস্ক মার্চ ৩, ২০২৬, ০৪:৪৩ এএম
ইরানের হামলায় কাতারের গ্যাস উৎপাদন বন্ধ, সরাসরি চাপে বাংলাদেশ

ইরানের ড্রোন হামলার জেরে কাতারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশে।

হামলার ঘটনা ও উৎপাদন স্থগিত

সোমবার ইরানের ড্রোন হামলায় কাতারের দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানে। একটি হামলা হয় মেসাইদ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পানির ট্যাংকে, অন্যটি কাতার এনার্জি পরিচালিত লাস রাফফানে এলাকায়। রাস লাফফান বিশ্বে সবচেয়ে বড় এলএনজি উৎপাদন ও রপ্তানি হাব হিসেবে পরিচিত।

হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে গ্যাস উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় কাতার কর্তৃপক্ষ।

হরমুজ প্রণালী বন্ধ, জাহাজ আটকে শতাধিক

এ পরিস্থিতিতে ইরান হরমুল প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। এই নৌপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি পরিবহন হয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রণালীতে অন্তত ১৫০টি জাহাজ নোঙর করে আছে, যার মধ্যে গ্যাসবাহী জাহাজও রয়েছে। সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় বাজারে দামের চাপ বাড়ছে।

বাংলাদেশ কতটা ঝুঁকিতে?

বিশ্বে রপ্তানিকৃত গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ আসে কাতার থেকে। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান—এই তিন দেশ কাতার থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ এলএনজি আমদানি করে। ফলে উৎপাদন ও রপ্তানিতে বিঘ্ন ঘটলে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারে এ দেশগুলো।

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানায় আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। সরবরাহ কমে গেলে স্পট মার্কেটে উচ্চমূল্যে গ্যাস কিনতে হতে পারে, যা বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি বাড়ানো বা গ্রাহক পর্যায়ে দাম সমন্বয়ের চাপ তৈরি করতে পারে।

বৈশ্বিক বাজারে প্রভাব

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, তাৎক্ষণিকভাবে এটি পূর্ণাঙ্গ ‘সংকট’ না হলেও পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে এলএনজি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যদি কাতারের উৎপাদন অবকাঠামো বা রপ্তানি হাবে বড় ধরনের ক্ষতি হয়, তাহলে বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।

বর্তমানে বিশ্বে এলএনজি রপ্তানিতে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, এরপর অস্ট্রেলিয়া। কাতার তাদের পরের অবস্থানে। ২০২২ সালের আগে রাশিয়া ছিল বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাস রপ্তানিকারক দেশ, তবে ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপীয় দেশগুলো বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

সামনে কী?

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে এশিয়ার আমদানিনির্ভর দেশগুলোকে উচ্চমূল্যের বাজারে প্রতিযোগিতায় নামতে হবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়বে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হবে।

বাংলাদেশের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং অভ্যন্তরীণ গ্যাস ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানো—নচেৎ বৈশ্বিক অস্থিরতার ঢেউ সরাসরি এসে লাগবে দেশের জ্বালানি ও অর্থনীতিতে।

এম

Wordbridge School
Link copied!