• ঢাকা
  • সোমবার, ০৯ মার্চ, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

করোনা মহামারির পর সর্বোচ্চ তেলের দাম, বাড়তে পারে আরও


আন্তর্জাতিক ডেস্ক মার্চ ৯, ২০২৬, ১০:৩৮ এএম
করোনা মহামারির পর সর্বোচ্চ তেলের দাম, বাড়তে পারে আরও

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও দ্রুত বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। সর্বশেষ লেনদেনে এক ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম উঠে এসেছে প্রায় ১০৮.৭৭ ডলারে, যা করোনা মহামারির পর একদিনে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি হিসেবে ধরা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য সংঘাতের কারণে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ২৮ শতাংশ বেড়েছে, যা বাজারে অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। এতে ভোক্তা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সামনে কয়েক সপ্তাহ কিংবা মাসজুড়ে উচ্চ জ্বালানি মূল্যের চাপ সহ্য করতে হতে পারে। একই সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ রুটে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বাড়ায় সরবরাহ শৃঙ্খলও বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব লোহিত সাগর ঘিরে তেলের চালান বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। তবে শিপিং তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ কমে গেলে সেই ঘাটতি পূরণে এটি যথেষ্ট নাও হতে পারে।

এএনজেড ব্যাংকের সিনিয়র পণ্য কৌশলবিদ ড্যানিয়েল হাইন্স জানান, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু উৎপাদক গুদামে তেলের মজুদ বাড়ার কারণে উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছেন। পরিস্থিতি আরও জটিল হলে তারা তেলের কূপ সাময়িকভাবে বন্ধ করতেও বাধ্য হতে পারেন। এমন হলে সংঘাত শেষ হওয়ার পরও উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগবে।

অন্যদিকে জেপিমরগানের প্রধান অর্থনীতিবিদ ব্রুস কাসমান সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্ব অর্থনীতি এখনও মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল, যার বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

তার মতে, স্বল্পমেয়াদে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১২০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। পরে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে দাম কমলেও বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম তুলনামূলক উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে।

কাসমান আরও উল্লেখ করেন, জ্বালানির দাম বাড়তে থাকলে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ০.৬ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি প্রায় ১ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

তিনি সতর্ক করেন, যদি সংঘাত আরও বিস্তৃত ও দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারেরও বেশি হতে পারে। এতে বিশ্ব অর্থনীতি নতুন করে মন্দার ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

এম

Wordbridge School
Link copied!