• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

ইসরায়েলের সামনে কঠিন সমীকরণ

৪৪০ কেজি ইউরেনিয়ামই কি নির্ধারণ করবে যুদ্ধের ভাগ্য?


আন্তর্জাতিক ডেস্ক মার্চ ১৩, ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
৪৪০ কেজি ইউরেনিয়ামই কি নির্ধারণ করবে যুদ্ধের ভাগ্য?

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝে ইরানের হাতে থাকা ৪৪০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এখন ইসরায়েলের জন্য সবচেয়ে বড় কৌশলগত উদ্বেগ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, চলমান সংঘাতের শেষ পর্যন্ত বিজয় বা পরাজয়ের হিসাব অনেকটাই নির্ভর করছে এই ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ কী হয় তার ওপর।

ইসরায়েলের নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট একাধিক বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে চালানো হামলা ও চাপ সত্ত্বেও ইরানের শাসনব্যবস্থা এখনও টিকে আছে। শুরুতে এমন ধারণা করা হয়েছিল যে, বিমান হামলার পর দেশটির ভেতরে গণবিক্ষোভ বা বিদ্রোহ দেখা দিতে পারে। তবে বাস্তবে সেই ধরনের কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, গত বছরের সংঘাতের সময় ইরান প্রায় ৪৪০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পাহাড়ের নিচে একটি সুরক্ষিত স্থানে সংরক্ষণ করে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিমাণ উপাদান থেকে ১০টির বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরির সম্ভাব্য উপাদান পাওয়া যেতে পারে।

ইসরায়েলের এক সাবেক জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেন, যুদ্ধের প্রকৃত ফলাফল নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই ইউরেনিয়ামই সবচেয়ে বড় সূচক। তার ভাষায়, “৪৪০ কেজি ইউরেনিয়ামের কী হয় সেটিই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে অভিযান সফল হয়েছে কি না।”

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের সামনে এখন মূলত দুটি পথ খোলা আছে। একটি হলো এই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরানের বাইরে সরিয়ে নেওয়া। অন্যটি হলো এমন একটি রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করা যেখানে নতুন কোনো সরকার এসে এসব উপাদান কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখবে।

ইরানের কট্টরপন্থী রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরেই পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতাকে রাষ্ট্রের নিরাপত্তার মূল ভরসা হিসেবে দেখা হয়। বর্তমান শাসনব্যবস্থা যদি টিকে থাকে, তাহলে এই ধারণা আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

এদিকে মার্কিন প্রশাসনের মধ্যেও এই ইউরেনিয়াম নিরাপদে জব্দ করার সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনা চলছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এমন কোনো সামরিক অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা বিশ্লেষক জোয়াব রোসেনবার্গ সতর্ক করে বলেছেন, যদি এই ইউরেনিয়াম শেষ পর্যন্ত ইরানের হাতেই থেকে যায়, তাহলে যুদ্ধের পর ইসরায়েলের সম্ভাব্য জয়ও ‘পিরিক ভিক্টরি’তে পরিণত হতে পারে। অর্থাৎ এমন একটি জয়, যার দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল শেষ পর্যন্ত ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংঘাত হয়তো সাময়িকভাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ধীর করে দিতে পারে। তবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে দেশটি দ্রুতই সেই পথে এগিয়ে যেতে পারে—যা ইসরায়েল ও পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

এম

Wordbridge School
Link copied!