ফাইল ছবি
ঢাকা: আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম এক শতাংশের বেশি কমেছে, ফলে সপ্তাহজুড়েই মূল্যহ্রাসের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, তেলের উচ্চমূল্য থেকে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতির চাপ বিনিয়োগকারীদের আচরণে প্রভাব ফেলছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার কমানোর সম্ভাবনাও কমিয়ে দিচ্ছে।
শুক্রবার স্পট মার্কেটে সোনার দাম ১.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৬৮.৮২ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে, জুন ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সোনা ফিউচারও ১.১ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৫৭৯.৭০ ডলারে। সপ্তাহের হিসেবে সোনার দাম প্রায় ১.২ শতাংশ কমার পথে রয়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মন্দা ও উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম বছরের শুরুর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় এই উদ্বেগ আরও জোরদার হয়েছে।
ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভান্নি স্টাউনোভো বলেন, স্বল্পমেয়াদে সোনার সঙ্গে তেলের দামের একটি নেতিবাচক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, যা মূলত সুদের হার সংক্রান্ত প্রত্যাশাকে প্রভাবিত করছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে মার্চ মাসে মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে, যার পেছনে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ফেডারেল রিজার্ভ আগামী বছর পর্যন্ত সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে। একই পথে হেঁটেছে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক, ব্যাংক অব ইংল্যান্ড এবং জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও, যারা সম্প্রতি সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোনা সাধারণত মুদ্রাস্ফীতি ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সময় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হলেও, উচ্চ সুদের হারের পরিবেশে এর আকর্ষণ কমে যায়। কারণ তখন বিনিয়োগকারীরা সুদবাহী সম্পদের দিকে ঝুঁকে পড়েন।
সোনার সঙ্গে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও পতনের প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম ০.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৩.২৭ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনাম ১.৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৬০.৩০ ডলারে এবং প্যালাডিয়াম ০.৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫১৫.৩৭ ডলারে পৌঁছেছে।
পিএস







































