ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা ও গভর্নর শাসন জারির পর সেখানকার রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে প্রাদেশিক সরকারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি, জাতীয় পরিষদের সদস্য জুনাইদ আকবর এবং স্পিকার বাবর সলিম সোয়াতিসহ পিটিআইয়ের বেশ কয়েকজন শীর্ষপর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেপ্তার করে হেফাজতে রাখা হয়েছে। গতকাল সোমবার পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী তাঁদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সুপারিশের পর প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির অনুমোদনে খাইবার পাখতুনখোয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে জরুরি অবস্থা ও গভর্নর শাসন কার্যকর হয়। পিটিআই নেতৃত্বাধীন সরকার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে-এমন অভিযোগে সংবিধানের ২৪৫ অনুচ্ছেদের আওতায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় সেখানে সেনা মোতায়েনেরও অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র।
দায়িত্ব গ্রহণ করেই প্রদেশের গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি একটি ১১ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেছেন, যার মূল লক্ষ্য সন্ত্রাসবাদ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এ সংঘাতময় পরিস্থিতির প্রভাবে করাচিসহ অন্যান্য সংবেদনশীল এলাকাগুলোতেও জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা।
এদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপকে 'রাজনৈতিক দমনপীড়ন' বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। দলটির মুখপাত্র শেখ ওয়াকাস আকরাম অভিযোগ করেছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থার অজুহাতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের আটকে রেখে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর করার চেষ্টা চালাচ্ছে কেন্দ্র।
পিটিআইয়ের অন্তর্বর্তী চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গোহর খান এই সিদ্ধান্তের আইনি বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে পেশোয়ার হাইকোর্টে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। জাতীয় পরিষদের বিরোধীদলীয় নেতা মেহমুদ খান আচেকজাই এবং সেনেটের বিরোধীদলীয় নেতা আল্লামা রাজা নাসির আব্বাসও এই ঘটনাকে সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর বড় আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছেন।
উত্তপ্ত এই রাজনৈতিক সংকট কাটাতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এগিয়ে এসেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের (জেইউআই-এফ) প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান। দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে তিনি একটি সর্বদলীয় সংসদীয় সম্মেলনের উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন।
যদিও সরকারি দলের শীর্ষ নেতারা পিটিআইয়ের অভ্যন্তরীণ বিভক্তির কারণে এ সমঝোতা উদ্যোগের সফলতা নিয়ে কিছুটা সংশয় দেখাচ্ছেন, তবুও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান অচলাবস্থা কাটাতে ফজলুর রহমানের ভূমিকা উভয় পক্ষের জন্যই সংঘাত এড়ানোর নতুন এক পথ তৈরি করতে পারে।
এসএইচ







































