ছবি: সোনালীনিউজ
দেশে মুক্তবুদ্ধির চর্চার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র অমর একুশে বইমেলা শুরু হয়েছে ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে। প্রতিবছর পুস্তকপ্রেমীরা নানা রঙে ঢঙে উপস্থিত হয়ে মেলার পরিবেশকে রঙিন করে তোলেন। তবে এবারের বইমেলার চিত্র গত বছরের তুলনায় ভিন্ন, পাঠকের উপস্থিতি স্বাভাবিকের চেয়ে কম।
২৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া মেলার ষষ্ঠ দিনে দেখা যায় বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হলেও অনেক স্টলই ক্রেতাশূন্য। পুরাতন বইয়ের পাশাপাশি নতুন প্রকাশিত বই সাজিয়ে প্রকাশক ও বিক্রয়কর্মীরা পাঠকের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। প্রকাশকদের একাংশ জানান, গত বছরের তুলনায় বই বিক্রি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। মেলা মাহে রমজান মাসে হওয়ায় পাঠকসংখ্যা কমেছে বললেও, প্রযুক্তির ব্যবহার কাগজের বইয়ের প্রতি নব পাঠকের অনীহা মূল কারণ হিসেবে তারা দেখছেন।
লেখকদের দাবি, বইয়ের প্রতি পাঠকের ভালোবাসা এখনও অনেক, রমজান মাস বাধা নয়। তবে মোবাইল ফোনের আসক্তি পাঠককে বই থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। সাহিত্য সমালোচকদের মতে, মোবাইল নির্ভর সমাজে চিন্তার ক্ষেত্র সংকুচিত হওয়াই পাঠকের অনাগ্রহের মূল কারণ। তারা মনে করেন, বইমেলা কেবল বই কেনাবেচার স্থান নয়, এটি চিন্তা, মতপ্রকাশ ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গুরুত্বপূর্ণ প্লাটফর্ম। সেই চিন্তা দুর্বল হলে মেলার প্রাণও ম্লান হয়ে যায়।
কর্তৃপক্ষ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সেমিনার এবং লেখক-পাঠক আড্ডার আয়োজনের মাধ্যমে পাঠকদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। কাগজের বই কেবল স্থান, কাল ও পাত্র দখলকারী বস্তু নয়, এটি পাঠকপ্রেমিকদের আত্মার রস। এই রস মেধার ক্ষুধা মেটায় এবং মানসিক বল যোগায়। আশা করা হচ্ছে, কাগজের বইয়ের সুঘ্রাণের টানে খুব দ্রুতই মেলার প্রাঙ্গন মুখরিত হয়ে উঠবে।
এসএইচ

























-20260722160634.jpg)







-20260725114857.jpg)





