• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

যে কারণে ফের আলোচনায় দুই শতাব্দী পুরোনো কবি


নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম
যে কারণে ফের আলোচনায় দুই শতাব্দী পুরোনো কবি

ফাইল ছবি

সোশ্যাল মিডিয়ায় হঠাৎ করেই ছড়িয়ে পড়েছে মির্জা গালিবের শায়েরি ও উক্তি। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও শর্ট ভিডিও প্ল্যাটফর্মে দুই-তিন লাইনের বিষণ্ন ও দার্শনিক পঙ্‌ক্তি ব্যবহার করে কনটেন্ট তৈরি করছেন ক্রিয়েটররা। সেই পোস্ট ও ভিডিওগুলো দ্রুত ভাইরাল হয়ে নতুন করে আলোচনায় এনেছে উর্দু সাহিত্যের এই কিংবদন্তি কবিকে।

মির্জা গালিবের প্রকৃত নাম মির্জা বেগ আসাদুল্লাহ খান। তিনি ১৭৯৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর আগ্রায় জন্মগ্রহণ করেন। মোগল সাম্রাজ্যের শেষ ও ব্রিটিশ শাসনের শুরুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে তিনি উর্দু ও ফার্সি ভাষায় সাহিত্যচর্চা করেন। সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে ‘দাবির-উল-মালিক’ ও ‘নাজিম-উদ-দৌলা’ উপাধিও দেওয়া হয়। দক্ষিণ এশিয়ায় উর্দু কবিতার সবচেয়ে প্রভাবশালী কবিদের একজন হিসেবে তাঁকে বিবেচনা করা হয়।

গালিবের জীবদ্দশায় তাঁর কাব্যিক প্রতিভা তেমন স্বীকৃতি না পেলেও মৃত্যুর পর তাঁর সাহিত্য বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি পায়। জীবনের দুঃখ, বিচ্ছেদ, ব্যথা ও অস্তিত্বের টানাপোড়েন তাঁর কবিতার মূল সুর হয়ে ওঠে, যা আজও পাঠকের মনে গভীর ছাপ ফেলে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্তমানে যে উক্তিগুলো ভাইরাল হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে জীবনের কষ্ট, বিচ্ছেদ, ভালোবাসা ও আত্মঅনুভূতির গভীর প্রকাশ। যেমন—দুঃখকে ঘরের মানুষের মতো গ্রহণ করা, বা বিচ্ছেদের মাঝেও মিলনের অনুভব খোঁজা-এ ধরনের ভাবনা তরুণদের মধ্যে বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল যুগে মানুষ দ্রুত আবেগ প্রকাশযোগ্য কনটেন্ট খোঁজে। গালিবের ছোট ছোট কিন্তু গভীর অর্থবহ পঙ্‌ক্তি সেই চাহিদার সঙ্গে সহজেই মিলে যাচ্ছে। তাই দুই শতাব্দী পরেও তাঁর কবিতা নতুন প্রজন্মের কাছে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে।

১৮৬৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মির্জা গালিবের মৃত্যু হয়। দিল্লির নিজামউদ্দিন এলাকার পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। কিন্তু সময়ের ব্যবধান সত্ত্বেও তাঁর কবিতা আজও একইভাবে বেঁচে আছে-এবার সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন ভাষায়।

এসএইচ 

Link copied!