• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
Sonalinews.com

মহাষ্টমী আজ: মণ্ডপে মণ্ডপে করোনা থেকে মুক্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনা 


অক্টোবর ২৪, ২০২০, ১১:২৪ এএম
মহাষ্টমী আজ: মণ্ডপে মণ্ডপে করোনা থেকে মুক্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনা 

ঢাকা : বৃষ্টির মধ্যেও উৎসবপ্রিয় বাঙালি হিন্দুরা মণ্ডপে মণ্ডপে মেতে উঠেছেন দেবী দুর্গার আরাধনা। করোনাভাইরাস মহামারী থেকে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশের সব মানুষের মুক্তিতে শুক্রবার মহাসপ্তমীর দিনে বিশেষ প্রার্থনায় ভক্তরা অংশ নেন। দেশের সব মন্দির-মণ্ডপে প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুর্গাপূজার মহাষ্টমী অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল ৫টা ১৬ মিনিটের মধ্যে দুর্গাদেবীর মহাষ্টম্যাদি বিহিত পূজা প্রশস্তা ও মহাঅষ্টমীর ব্রতোবাস শুরু হয়। এরপর সকাল ৬টা ৩৫ মিনিট থেকে ৭টা ২৩ মিনিটের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় সন্ধিপূজা।

এদিকে মণ্ডপে দেবী ভক্তদের উপচেপড়া ভিড়ে মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব। তবে মন্দিরের প্রবেশ মুখে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী দিয়ে  সমস্ত শরীর ভাইরাসমুক্ত করা হচ্ছে। গতকাল যারা অঞ্জুলি দিতে পারেননি তারা আজ দেবিকে অঞ্জুলি দিচ্ছেন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল থেকে মহাসপ্তমী পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। দেবী দুর্গার প্রতিবিম্ব আয়নায় ফেলে বিশেষ ধর্মীয় রীতিতে স্নান সেরে, বস্ত্র ও নানা উপাচারে সজ্জিত করা হয়। এরপর ত্রিনয়না দেবীর তৃতীয় চক্ষুদান করা হয়। নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপন শেষে দেবীর মহাসপ্তমী বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর পূজার প্রথম অঞ্জলি দেয়া হয়।

উপোস থেকে মায়ের পায়ে অঞ্জলি দিয়ে দিন শুরু করেন ভক্তরা। অঞ্জলি দিতে দেবী দুর্গার সামনে ফুল-বেলপাতা দুই হাতের মুঠোয় আঁকড়ে ধরে দাঁড়িয়েছিলেন অনেক ভক্ত। এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবে মহাসপ্তমীর দিনে প্রথম অঞ্জলি দেয়া হয়।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে পুজো শেষ হয়। পুজো শেষে মায়ের পায়ে অঞ্জলি দেয়া হয়। এতে শত শত ভক্ত অংশ নেন। অঞ্জলি শেষে বিশ্বের শান্তি ও মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করেন কেন্দ্রীয় পূজা মণ্ডপের পুরোহিত রঞ্জিত চক্রবর্তী। তাতে অংশ নেন ভক্তরা। সকালে পরপর বেশ কয়েকটি অঞ্জলি দেয়া হয়।

হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত পাল বলেন, সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী আমাদের জন্য বিশেষ আনন্দের।

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কিশোর রঞ্জন মণ্ডল বলেন, মায়ের চরণে অঞ্জলি দেয়া, মাকে হৃদয়ে ধারণ করা, এর যে অনুভূতি তা কখনই আসলে ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। এটা সবার কাছে অত্যন্ত আনন্দের ও সুখানুভূতির। তিনি আরও বলেন, এবার পুজো মণ্ডপে সে ধরনের কোনো উৎসবের আয়োজন নেই। সবাই সাত্ত্বিকভাবে পূজা পালন করছেন। এখানে যারা এসেছেন সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন। আমরা আশা করছি আগামী কয়েকদিনেও সবাই এভাবে চলবেন।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশের মানুষ যাতে করোনা মহামারী থেকে মুক্তি পায় সেজন্য দেশের সব মন্দির ও পূজামণ্ডপে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। শুক্রবার দুপুর ১২টা ১ মিনিটে একযোগে এ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।

রাজধানীর ঢাকেশ্বরী কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপে প্রার্থনা পরিচালনা করেন ঢাকেশ্বরী পূজা মণ্ডপের পূজারি উত্তম চক্রবর্তী।

এ সময় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত, সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জি, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কিশোর রঞ্জন মণ্ডলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা উপস্থিত ছিলেন। করোনা মুক্তির পাশাপাশি দেশের সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।

সোনালীনিউজ/এএস

Side banner