• ঢাকা
  • সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

বিভাগীয় মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে জনপ্রশাসনের উদ্যোগ


নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২২, ০৭:৩৭ পিএম
বিভাগীয় মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে জনপ্রশাসনের উদ্যোগ

ঢাকা : জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বর্তমানে ৩৫টি বিভাগীয় মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে তদন্তাধীন রয়েছে ২৬টি মামলা। উচ্চ আদালতে রিট দায়েরের কারণে অনিষ্পন্ন রয়েছে ২টি মামলা। বিশেষ কারণে অনিষ্পন্ন রয়েছে ৬টি মামলা। এসকল মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যেগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট অনুবিভাগ। তদন্তাধীন ২৬টি মামলার মধ্যে ১১টি মামলা ১ বছর থেকে প্রায় আড়াই বছর পর্যন্ত পেন্ডিং রয়েছে। এই মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করবে শৃঙ্খলা ও তদন্ত অনুবিভাগ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা ও তদন্ত অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. ফরিদ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিচারাধীন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আমরা কাজ করছি। যাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় তারা অনেক সময় উপস্থিত হতে চায় না। এজন্য নিষ্পত্তিতে সময় লাগছে। বিভাগীয় মামলা বিলম্বিত হলে কর্মকর্তাদের পদোন্নতিসহ প্রাপ্য অনেক কিছু পেন্ডিং থাকে। এছাড়া যারা তদন্তের দায়িত্বে থাকেন তাদের নিজ নিজ দফতরের দৈনন্দিন কাজও ব্যাহত হয়। যে সকল মামলা বেশি সময় ধরে পেন্ডিং সেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে আমরা শীঘ্রই বসবো।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ১২৪টি অভিযোগ এসেছে। ওই মাসে নতুন করে ১টি বিভাগীয় মামলা রজু করা হয়। তদন্ত শেষে ১টি মামলায় লঘুদণ্ড ও ১টি মামলায় গুরুদণ্ড দেওয়া হয়। মামলা থেকে অব্যহতি দেওয়া হয় ২ জনকে।

প্রাথমিক তদন্তে সন্দেহাতীতভাবে অপরাধ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। তার পরেও বিভাগীয় মামলায় শাস্তি হওয়ার সংখ্যা খুবই নগন্য। বিভাগীয় মামলায় কাউকে দোষী সাব্যস্ত করলে অভিযোগ গঠনপূর্বক তখন মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসাবে জনপ্রশাসন সচিব কারণ দর্শানো নোটিশ জারি অথবা ব্যক্তিগত শুনানি গ্রহণ করেন। এরপর কাউকে শাস্তি প্রদান কিংবা অব্যাহতি দেয়া হয়। এর পরেও যারা শাস্তি পান তারাও বিভিন্নভাবে তদবির করে দণ্ড মওকুফ করিয়ে নিচ্ছেন।

শৃঙ্খলা ও তদন্ত অনুবিভাগের মাসিক পর্যালোচনা সভার সর্বশেষ তথ্যানুসারে এই মুহূর্তে ২৬টি বিভাগীয় মামলা প্রায় আড়াই বছর পর্যন্ত পেন্ডিং রয়েছে। যেসব তদন্ত দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে আছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ ইমতিয়াজের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা। মামলাটি তদন্ত করছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শেলিনা খানম। ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর থেকে মামলাটি পেন্ডিং রয়েছে। আসিফ ইমতিয়াজ বর্তমানে ওএসডি অবস্থায় রয়েছেন।

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মো. আলিমউল্লাহর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলার তদন্ত করছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। মামলাটি ২০১৯ সালের ৯ ডিসেম্বর থেকে পেন্ডিং রয়েছে। আলিমউল্লাহ বর্তমানে খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সাবেক সহকারী কমিশনার মো. সারোয়ার সালামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয় গত বছরের ১৩ আগস্ট। বর্তমানে তিনি স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার তদন্ত করছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শেলিনা খানম।

সিলেট সদরের সাবেক সহকারী কমিশনার খালেদা খাতুন রেখার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাটির তদন্ত শুরু হয়েছে গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর। তিনি বর্তমানে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা। তার মামলাটির তদন্ত করছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আলাউদ্দীন আলী।

জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের সাবেক পরিচালক এ কে এম রেজাউল করিমের বিভাগীয় মামলাটি তদন্ত করছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দীন। ২০২০ সালের ২২ সেপ্টেম্বর থেকে বিভাগীয় মামলাটি পেন্ডিং রয়েছে। রেজাউল করিম বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় রয়েছেন।

কক্সবাজারের পেকুয়ার সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈকা সাহাদাতের বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয় গত বছরের ২০ ডিসেম্বর। তিনি বর্তমানে পরিকল্পনা বিভাগে কর্মরত রয়েছেন। তার এই মামলাটি তদন্ত  করছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আশফাকুল হক চৌধুরী।

বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সাবেক সহকারি কমিশনার জগৎবন্ধু মন্ডলের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলাটি তদন্ত করছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব ফরিদা ইয়াসমিন। গত বছরের ২৪ জানুয়ারি মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। তিনি বর্তমানে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

বিপিএটিসি সাভারের প্রাক্তন পরিচালক (উপসচিব) বর্তমানে এনটিআরসিএ এর পরিচালক তাহসিনুর রহমান এর বিরুদ্ধে গত বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলাটি তদন্ত করছেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের নির্বাহী কমকর্তা (অতিরিক্ত সচিব) জাবেদ আহমেদ প্রধান।

ভোলার দৌলতখান উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা বর্তমানে জুরাছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জীতেন্দ্র কুমার নাথের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভাগীয় ২টি মামলাটি তদন্ত করছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব জাকির হোসেন। গত বছরের ৪ মার্চ তার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল।

বগুড়ার গাবতলীর সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল ওয়ারেস আনাসীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলা তদন্ত করছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ শামীম সোহেল। মামলাটি গত বছরের ৭ মার্চ দায়ের করা হয়। তিনি বর্তমানে জাপানে মার্স্টাস কোর্সে অধ্যায়নরত আছেন।

বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের সাবেক উপ পরিচালক মোহাম্মদ ফারুক আহমদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলা তদন্ত করছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আমেনা বেগম। তার বিরুদ্ধে মামলাটি গত বছরের ৪ এপ্রিল দায়ের করা হয়েছিল।

নওগা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সাবেক ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মোহা. যোবায়ের হোসেনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলাটি তদন্ত করছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. মাসুদুল হাসান। গত বছরের ১৪ জুন মামলাটি দায়ের করা হয়। তিনি বর্তমানে ঠাকুরগাওয়ের বালিয়াডাঙ্গি উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সাবেক সহকারী কমিশনার বীর আমির হামজার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলাটি তদন্ত করছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব রিপন চাকমা। গত বছরের ১৪ জুন তার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়। তিনি বর্তমানে নাটোর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

গত বছরের ১৫ জুন থেকে তদন্ত চলছে বাংলাদেশ দূতাবাস রিয়াদের শ্রম কল্যাণ উইংয়ের প্রাক্তন কাউন্সেলর (উপসচিব) মো. মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে। এই মামলাটি তদন্ত করছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবু আহমেদ সিদ্দিক।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. সারওয়ার আলমের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলাটি তদন্ত করছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্নসচিব শেখ মোমেনা মনি। গত বছরের ২৯ জুন মামলাটি দায়ের করা হয়।

প্রাক্তন ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বর্তমানে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) সুমিত সাহার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলাটি তদন্ত করছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো: জাকির হোসেন। গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর মামলাটি দায়ের করা হয়।

বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়য় বিভাগের সহকারী সচিব (ক্যাডার বর্হিভূত) জুলহাজ আলী সরকারের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলাটি তদন্ত করছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ফ্লোরা বিলকিস জাহান। গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর মামলাটি দায়ের করা হয়।

সুনামগঞ্জ এর শাল্লা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল মুক্তাদির হোসেনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলাটি তদন্ত করছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ রফিকুল করিম। গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর মামলাটি দায়ের করা হয়।

মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা প্রমথ রঞ্জন ঘটকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলাটি তদন্ত করছেন যথাক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. সৈয়দা ফারহানা নুর চৌধুরী, উপসচিব রিপন চাকমা, উপসচিব কাজী মোহাম্মদ চাহেল তস্তুরী। গত বছরের ২৪ নভেম্বর মামলাটি দায়ের করা হয়।

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমিত চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলাটি তদন্ত করছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পি.কে.এম এনামুল করিম। তার বিরুদ্ধে চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারী মামলাটি দায়ের করা হয়।

এছাড়াও ঠাকুরগাওয়ের হরিপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাকিবুজ্জামান, মাদারীপুর জেলার সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সানজিদা ইয়াছমিন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রিভা শহারিয়ার, লানিং এন্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক আখতার মামুন, সাভার উপজেলার সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) শরিফুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে।


সোনালীনিউজ/এনএন

Link copied!