• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

‘ক্ষমতায় যেই আসুক, গরিব মানুষ যেন দুবেলা খেতে পারে’


নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম
‘ক্ষমতায় যেই আসুক, গরিব মানুষ যেন দুবেলা খেতে পারে’

ফাইল ছবি

কর্মসূত্রে নারায়ণগঞ্জে থাকলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে নিজ এলাকা ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে এসেছেন বৈশাখী আক্তার। বৃহস্পতিবার ঢাকা-৪ আসনের একটি কেন্দ্রে ভোট দিয়ে তিনি বলেন, ২০২৪ সালেও ভোট দিয়েছিলেন, এবারও শুধু ভোট দিতেই ঢাকায় এসেছেন। তাঁর ভাষ্য, আওয়ামী লীগ ছাড়া ভালো লাগছে না, তবু ভোট দেওয়া দায়িত্ব। তিনি বলেন, যে দলই ক্ষমতায় আসুক, জনগণের জন্য কাজ করুক। জনগণ পছন্দ করলে আবার ক্ষমতায় আনবে।

একই কেন্দ্রে জীবনের প্রথম ভোট দিয়েছেন ইসরাত জাহান স্বপ্না। তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকার এলে শক্ত প্রশাসন পাওয়া যাবে—এই বিশ্বাস থেকেই ভোট দিতে এসেছেন। তাঁর প্রত্যাশা, দুর্নীতিমুক্ত সরকার। স্বপ্নার বান্ধবী মিম তাবাসসুম অধরা বলেন, কেউ যেন বঞ্চিত না হয়, গরিব মানুষ যেন দুবেলা খেতে পারে-এমন সরকার চান তিনি। প্রথম ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে অধরা বলেন, আগে গুমোট ভাব ছিল, কিন্তু কেন্দ্রে এসে ঈদের মতো পরিবেশ মনে হয়েছে।

রাজধানীর শনিরআখড়া, মাতুয়াইল, জুরাইন, ডেমরা, যাত্রাবাড়ী ও সায়দাবাদ এলাকার ভোটাররা ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫ আসনে বিভক্ত হয়ে ভোট দেন। সকাল থেকেই অনেক নারী ভোটার কেন্দ্রে আসেন। ঢাকা-৪ আসনের এ কে উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে নারীদের জন্য পৃথক বুথ ছিল। ঢাকা-৫ আসনের সায়দাবাদ এলাকায় হলিহার্ট কিন্ডারগার্টেন কেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, চারটি বুথে ভোট নেওয়া হয়েছে। সকালে চাপ বেশি থাকলেও দুপুরের পর তা কমে।

দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ কেন্দ্রে প্রথমবার ভোট দিয়ে মরিয়ম সুলতানা কেয়া বলেন, তিনি এমন বাংলাদেশ চান যেখানে সরকার জনগণকে নিয়ে ভাববে। আইরিন সুলতানা বলেন, রাষ্ট্রের সংস্কার প্রয়োজন বলেই তিনি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। তাঁর প্রত্যাশা, বিচার সম্পন্ন হোক এবং নতুন সরকার আগের মতো না হোক।

জুরাইন উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোট দিয়ে হিরাজুন মুনিরা বলেন, রাজনীতিতে নোংরামি, চাঁদাবাজি ও হয়রানি বন্ধ হোক-এমন সরকার চান তিনি।

তবে বিভিন্ন কেন্দ্রে গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তির চিত্রও দেখা গেছে। রাজধানীর কতুবখালীর জাহিরুননেছা মহিলা কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে অনেক বয়োজ্যেষ্ঠ নারী ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের তাৎপর্য না জেনেই ভোট দিয়েছেন। পঞ্চাশোর্ধ রাহিমা বেগম বলেন, মার্কা চিনে ভোট দিয়েছেন, তবে গোলাপি ব্যালট পেপারে কোনটিতে সিল দিলে কী হবে, তা জানেন না। তিনি বলেন, ভোট দিতে এসেছেন, তাই ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন।

সায়দাবাদ হলিহার্ট কিন্ডারগার্টেন কেন্দ্রেও একই ধরনের ঘটনা দেখা যায়। নুরুন নাহার নামে এক ভোটার গণভোটের ব্যালট পেয়ে কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চান, কোনটিতে সিল দিলে কী সুবিধা। শেষ পর্যন্ত দুটো ব্যালট নিয়ে ভোটকক্ষে প্রবেশ করেন তিনি। ভোটারদের উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি গণভোটের প্রশ্নে সচেতনতার ঘাটতির চিত্রও দিনভর রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রে চোখে পড়েছে।

এসএইচ 

Wordbridge School
Link copied!