ছবি: সংগৃহীত
ঢাকায় পাঠাও চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন আজিজুল ইসলাম। মোটরসাইকেলের তেলই তার আয়ের প্রধান ভরসা। কিন্তু শনিবার বিকেল থেকে রাজধানীর একাধিক পাম্প ঘুরেও তেল না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন তিনি
বিকেল তিনটা থেকে তেজগাঁও, লিংক রোড, সাতরাস্তা-এমন কয়েকটি এলাকার ছয়–সাতটি পাম্পে ঘুরেছেন আজিজুল। একটি পাম্পে প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করার পরও তেল পাননি। পরে তিনি ছুটে যান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দক্ষিণ পাশে থাকা একটি পাম্পে। সেখানে গিয়েও দেখেন শতাধিক মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন।
শনিবার (৭ মার্চ) বিকেল পৌনে ছয়টার দিকে ওই পাম্পের সামনে দাঁড়িয়ে আজিজুল ইসলাম বলেন, “একটা পাম্পে দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও অল্পের জন্য তেল পেলাম না। এখন এটাতে পাব কি না জানি না।”
পাম্পের সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছিল শতাধিক মোটরসাইকেল। প্রত্যেক বাইকারই তেল নেওয়ার আশায় অপেক্ষা করছিলেন। মাঝে মাঝে কয়েকটি মোটরসাইকেল সামান্য এগোলেই লাইনে হইচই পড়ে যাচ্ছিল। অনেকে ভাবছিলেন, এবার হয়তো তাদের পালা এসেছে।
সড়ক ও জনপদ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়ের পাশের সড়কে তৈরি হয় দীর্ঘ লাইন। শুধু মোটরসাইকেল নয়, তেল নিতে আসা মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কারের সারি গিয়ে পৌঁছায় সিভিল এভিয়েশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে পর্যন্ত।
পাম্পে অপেক্ষমাণ বাইকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই দিনভর বিভিন্ন পাম্পে ঘুরেও তেল পাননি। কেউ কেউ অল্পের জন্য তেল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়ে আবার অন্য পাম্পে ছুটেছেন। এদের মধ্যে বেশিরভাগই চাকরিজীবী ও রাইডশেয়ার সেবার চালক।
রবিউল ইসলাম জানান, গত দুই দিন ধরেই তিনি এই পাম্পে তেল নিতে এসে দীর্ঘ লাইনের কারণে ফিরে গেছেন। আজ বাইকের তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছেন।
তিনি বলেন, “চার ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও কি তেল নেওয়া সম্ভব? সরকার যদি প্রত্যেককে ৫০০ টাকার তেল দিতো, অন্তত সেটা ভালো হতো। দুই লিটার তেল দুই দিনের বেশি চলে না। আজ তেল নিতে অফিস থেকে আগেই বের হয়েছি, কিন্তু লাইনে পড়ে গেলাম।”
লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অনেকেই বিকেল তিনটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত তেল পাননি। ফলে রোজাদার কয়েকজন বাইকার মোটরসাইকেলের ওপর বসেই শুধু পানি খেয়ে ইফতার করেছেন।
লিটন আহমেদ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। প্রতিদিন সকালে কাজে যান এবং বিকেলে বাসায় ফেরেন। আজ তিনি পরিবারের সঙ্গে ইফতার করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তেলের লাইনে দাঁড়িয়ে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
তিনি জানান, স্ত্রী বারবার ফোন করছিলেন। পরে ভিডিও কল দিয়ে লাইনের পরিস্থিতি দেখিয়ে বলেন, “তোমরা ইফতার করে নাও, আমি তেল নিয়ে বাসায় ফিরতে কতক্ষণ লাগবে বলা মুশকিল।”
এদিকে সুজন আহমেদ, যিনি বিজয় স্মরণীর পাশে থাকেন, তিনিও ভেবেছিলেন দ্রুত তেল নিয়ে ফিরবেন। কিন্তু তাকেও দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
সুজাউল মিয়া জানান, গতকাল বিকেল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ঢাকার বিভিন্ন পাম্পে ঘুরেও তিনি তেল পাননি। আজ আবার অফিস শেষে তেলের খোঁজে বের হয়েছেন।
তিনি বলেন, “গত রাতে তেল নিতে গিয়ে খুব সমস্যা হয়েছে। আজ রিজার্ভ তেলে বের হয়েছি। এখন তেল না পেলে বড় বিপদে পড়ব।”
এসএইচ







































