• ঢাকা
  • সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

স্ত্রীর পরকীয়া, শেষমেশ খুন: বেড়ায় ফজলু হত্যা রহস্য উদঘাটন


পাবনা প্রতিনিধি মার্চ ৩০, ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম
স্ত্রীর পরকীয়া, শেষমেশ খুন: বেড়ায় ফজলু হত্যা রহস্য উদঘাটন

ছবি: প্রতিনিধি

পাবনার বেড়া উপজেলায় অটোরিক্সা চালক ফজলুল হক (৪৫) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার ভোরে নিজ নিজ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সাঁথিয়া উপজেলার করমজা গ্রামের মানিক হোসেন (৪৭), একই উপজেলার সমাসনারী পূর্বপাড়া গ্রামের খোকন প্রামানিক (৪২) এবং নিহতের স্ত্রী জোছনা খাতুন।

গত ২০ মার্চ সকালে বেড়া উপজেলার বড় বশিলা মাঠের একটি ধানের জমি থেকে ফজলুল হকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হয়, এর আগের রাতে তাকে হত্যা করা হয়েছিল। তিনি বেড়া উপজেলার হাতিগাড়া পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

সোমবার বিকেলে পাবনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনূর রহমান জানান, ফজলুল হক অটোরিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ১৯ মার্চ সন্ধ্যায় তিনি ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন সকালে তার ছেলে আরিফুল শেখ ওরফে স্বপন মোবাইল ফোনে বাবার মৃত্যুর খবর পান। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে বেড়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে জোছনা খাতুন নিহতের স্ত্রী এবং মানিক হোসেন তার সাবেক স্বামী। খোকন প্রামানিক মানিকের সহযোগী।

তদন্তে জানা যায়, প্রায় ২০-২৫ বছর আগে ফজলুল হকের সঙ্গে জোছনার বিয়ে হয় এবং তাদের সংসারে দুই ছেলে রয়েছে। পরে কাশিনাথপুর এলাকায় বসবাসকালে লটারি টিকিট বিক্রির সময় মানিকের সঙ্গে জোছনার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে ফজলুল হককে তালাক দিয়ে মানিককে বিয়ে করেন তিনি। তবে কিছুদিন পর সন্তানদের কথা ভেবে আবার ফজলুল হকের কাছে ফিরে আসেন এবং মানিককে তালাক দেন।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মানিক ফজলুল হককে হত্যার হুমকি দিতে থাকেন। এদিকে ফজলুল হকের সঙ্গে সংসার করলেও জোছনা গোপনে মানিকের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছিলেন। সম্প্রতি মোবাইল ফোনে কথা বলা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ তৈরি হলে জোছনা ক্ষুব্ধ হয়ে মানিকের সঙ্গে মিলে হত্যার পরিকল্পনা করেন। খোকনের সঙ্গে ফজলুল হকের পূর্ব বিরোধ থাকায় তাকেও পরিকল্পনায় যুক্ত করা হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৯ মার্চ সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যে বড় বশিলা মাঠের নির্জন ধানের জমিতে জোছনা ও খোকনের সহায়তায় মানিক লোহার দা দিয়ে গলায় কোপ দিয়ে ফজলুল হককে হত্যা করেন এবং মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যান।

ঘটনার প্রায় ১০ দিন পর পুলিশ হত্যার রহস্য উদঘাটন করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। তারা পুলিশের কাছে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে সোমবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এসএইচ 

Wordbridge School
Link copied!