• ঢাকা
  • সোমবার, ০৪ মে, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

পে স্কেল: যে দুই পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিলো সরকার


নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৪, ২০২৬, ০২:৪১ পিএম
পে স্কেল: যে দুই পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিলো সরকার

ফাইল ছবি

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম পে স্কেল বা নতুন বেতন কাঠামো আংশিক বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে সরকার। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এই লক্ষ্য পূরণে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বাজেটের একটি খসড়া প্রস্তুত করেছে, যা প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

নতুন বেতন কাঠামোটি কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা নিয়ে সরকার দুটি বিকল্প পদ্ধতি বিবেচনা করছে। প্রথমত, পুরো প্রক্রিয়াটি তিন বছরে সম্পন্ন করা। দ্বিতীয়ত, আগামী দুই অর্থবছরের মধ্যে ধাপে ধাপে বেতন ও ভাতা বৃদ্ধি করা। 

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম প্রস্তাব অনুযায়ী আগামী অর্থবছরেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রস্তাবিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হতে পারে। এর পরবর্তী বছরে বাকি অংশ সমন্বয় করা হবে। আর বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতার বিষয়টি তৃতীয় বছরে গিয়ে দুই ধাপে বাস্তবায়নের প্রাথমিক চিন্তা রয়েছে। সামগ্রিক বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

জাতীয় বেতন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, নবম পে স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে শুধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধিতেই ব্যয় হবে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ ব্যয় হবে পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের পেছনে। 

আগামী অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হচ্ছে ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি। বিপুল এই বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে ৬ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। এই বর্ধিত রাজস্ব থেকেই পে স্কেলের বাড়তি খরচ মেটানোর পরিকল্পনা করছে অর্থ বিভাগ।

এর আগে নবম পে কমিশন চলতি বছর থেকেই আংশিক বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছিল। সে অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকার প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দও রেখেছিল। তবে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় না হওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ও মূল্যস্ফীতির কথা বিবেচনা করে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এক বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়। সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে একবারে পুরো বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

প্রস্তাবিত নবম পে স্কেলে বর্তমানে প্রচলিত ২০টি গ্রেডই বহাল থাকছে। তবে বেতনের অংকে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সর্বনিম্ন ধাপের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপের বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। 

বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪ লাখ সক্রিয় সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগী রয়েছেন। তাঁদের পেছনে সরকারের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। নতুন কাঠামো পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হলে এই ব্যয়ের খাত উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। 

উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম পে স্কেলও দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। ওই সময় প্রথম বছর মূল বেতন এবং দ্বিতীয় বছর থেকে বিভিন্ন ভাতা কার্যকর করা হয়েছিল। এবারও সেই অভিজ্ঞতার আলোকেই ধাপে ধাপে এগোনোর পরিকল্পনা করছে সরকার।

এসএইচ 

Link copied!