ফাইল ছবি
রাজপথের আন্দোলন আর ত্যাগের বিনিময়ে যারা সংগঠনের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছিলেন, ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণার পর তাদের একটি বড় অংশই এখন মাঠের বাইরে। সাংগঠনিক গতিশীলতা বাড়াতে একযোগে ৪৫টি ইউনিটের কমিটি ঘোষণা করা হলেও পদবঞ্চিতদের ক্ষোভ আর চোখের জলে নয়াপল্টন থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ের রাজনীতি এখন উত্তপ্ত।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ গত শনিবার মধ্যরাতে ঢাকা মহানগরের চারটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটসহ দেশের বিভিন্ন জেলা, মহানগর ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করে। কেন্দ্রীয় নেতাদের দাবি, মেধা ও মাঠের সক্রিয়তা বিবেচনা করেই এই নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়েছে। তবে রাজপথের বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। বিগত সরকারবিরোধী আন্দোলনে যারা কারাবরণ করেছেন কিংবা একাধিক মামলার বোঝা নিয়ে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, তাদের অনেকের নাম নেই নবঘোষিত পূর্ণাঙ্গ ও আংশিক কমিটিতে। এই বঞ্চনা মেনে নিতে পারছেন না দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা।
কমিটি ঘোষণার পর থেকেই রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন পদবঞ্চিতরা। গতকাল দুপুরে সেখানে রীতিমতো বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তারা। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দুঃসময়ে যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যানার ধরেছেন, তাদের বাদ দিয়ে অনেক ক্ষেত্রে সুবিধাবাদীদের জায়গা করে দেওয়া হয়েছে। রাজপথের যোদ্ধাদের মূল্যায়ন না করা হলে সংগঠনের চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবারের কমিটি ঘোষণা পরবর্তী প্রতিক্রিয়া ছিল চোখে পড়ার মতো। লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রদলের এক নেতার ফেসবুক লাইভে এসে অঝোরে কাঁদার দৃশ্য নাড়িয়ে দিয়েছে অনেককে। সেই ভাইরাল ভিডিওতে উঠে এসেছে বছরের পর বছর সংগঠনের জন্য শ্রম দিয়েও শেষ পর্যন্ত উপেক্ষিত হওয়ার হাহাকার। শুধু লক্ষ্মীপুর নয়, রাঙামাটিসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিলের মাধ্যমে কর্মীরা তাদের দাবি তুলে ধরছেন। পদ না পাওয়ার চেয়েও ত্যাগের স্বীকৃতি না পাওয়াকে বড় ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন তারা।
একযোগে এত বিপুল সংখ্যক নেতা নির্বাচন করা সাংগঠনিকভাবে ইতিবাচক হলেও, অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে সবাইকে একসূত্রে গাঁথা এখন ছাত্রদল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের জন্য বড় পরীক্ষা। ত্যাগী কর্মীদের এই ক্ষোভ প্রশমিত না হলে সামনের দিনের আন্দোলনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ছাত্রদলের এই নতুন বিন্যাস সংগঠনের ভেতরে প্রাণসঞ্চার করবে নাকি বিভক্তির দেয়াল আরও উঁচু করবে, তা নির্ভর করছে পদবঞ্চিতদের মানভঞ্জনে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।
এসএইচ







































