• ঢাকা
  • সোমবার, ০৪ মে, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

চালুর আগেই লুট! ৫০ শয্যার হাসপাতালে অর্ধকোটি টাকার মালামাল চুরি


শরীয়তপুর প্রতিনিধি মে ৪, ২০২৬, ১২:৩০ পিএম
চালুর আগেই লুট! ৫০ শয্যার হাসপাতালে অর্ধকোটি টাকার মালামাল চুরি

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চালুর আগেই দফায় দফায় চুরির ঘটনায় প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আইনি জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটি চালু না হওয়ায় অরক্ষিত অবস্থার সুযোগ নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সর্বশেষ গত শুক্রবার(০১ এপ্রিল) হাসপাতাল ভবনের বিভিন্ন কক্ষের তালা ভেঙে জেনারেটরের কয়েল, এসি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশসহ অন্তত ৩৪ থেকে ৩৫ লাখ টাকার মালামাল চুরি করা হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতায় ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রায় ৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে নড়িয়া পৌরসভার বৈশাখীপাড়া এলাকায় হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। চারতলা বিশিষ্ট এই আধুনিক হাসপাতাল ভবনের পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য পৃথক আবাসনসহ আরও পাঁচটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এতে পাঁচ শয্যার আইসিইউ ইউনিটসহ আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা সংযোজন করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর হাসপাতালটি উদ্বোধনের কথা থাকলেও স্থানান্তর সংক্রান্ত জটিলতায় আদালতে মামলা হওয়ায় কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি।

সূত্র জানায়, ভবন হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় প্রথমদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। পরে জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে সেখানে অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। নির্বাচন শেষে সেনা সদস্যরা চলে গেলে ভবনটি আবারও অরক্ষিত হয়ে পড়ে। এরই সুযোগে চক্রটি একাধিকবার চুরি সংঘটিত করে।

ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত হাসপাতালটি চালু এবং চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে চুরির ঘটনায় দায় নিতে চাচ্ছে না কোনো দপ্তর। জেলা সিভিল সার্জন বলছেন, এখনো ভবনটি তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। অন্যদিকে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী আহসান হাবিবের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তার দপ্তরের গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে খুদে বার্তায় তিনি জানান, তাদের দায়িত্ব ছিল নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করা, যা সম্পন্ন হয়েছে—বাকি বিষয় সিভিল সার্জন দপ্তরের।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: বাহার মিয়া বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এম

Link copied!