দেশজুড়ে শুরু হওয়া বৃষ্টিপাতের ধারা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি বলছে, দেশের অভ্যন্তরে তৈরি হওয়া মেঘমালার প্রভাবে আগামী চার দিন পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টি হতে পারে। তবে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টির প্রবণতা ধীরে ধীরে কমতে পারে।
শনিবার (২ মে) সন্ধ্যায় প্রকাশিত সর্বশেষ পূর্বাভাসে আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক জানান, রোববার থেকে ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বহু স্থানে ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের প্রায় সব এলাকাতেই বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সোম, মঙ্গল ও বুধবার বৃষ্টির তীব্রতা আরও বাড়তে পারে বলেও পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বিদ্যমান লঘুচাপের প্রভাবে ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় দমকা হাওয়াসহ মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে আপাতত দিন ও রাতের তাপমাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
এদিকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে শ্রীমঙ্গলে, যেখানে ১৬২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সিলেটেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে, রেকর্ড করা হয়েছে ৮৬ মিলিমিটার।
অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উজানে ভারি বৃষ্টি এবং হাওর এলাকায় অতিভারি বর্ষণের কারণে কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বর্তমানে ৪৬টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ১৯টিতে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জের নালজুর নদী, নেত্রকোনার মগরা নদী, ভুসাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদী এবং হবিগঞ্জের সুতাল নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে নেত্রকোনা ও হবিগঞ্জের হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুর রহমান জানান, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় এসব নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি মৌলভীবাজারের হাওরাঞ্চলের নিম্নভূমিতেও নতুন করে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিম্নাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তাই স্থানীয়দের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এম






































-20260502070655.gif)
