• ঢাকা
  • সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

পে কমিশনের সুপারিশে যা আছে


নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৮, ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম
পে কমিশনের সুপারিশে যা আছে

ফাইল ছবি

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। এ জন্য আগামী বাজেটেই নতুন পে-স্কেলের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে বলে জানা গেছে। তবে বেতন কমিশনের সব সুপারিশ এখনই বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এটি কাচছাঁট করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর।

১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন শুরু হতে যাচ্ছে। তবে এ সংক্রান্ত কমিশনের সুপারিশ কাটছাঁটও হচ্ছে। জানা গেছে, তাদের একবারে পুরো সুবিধা কার্যকর না করে তিন ধাপে এটি বাস্তবায়নের কৌশল নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে আগামী বাজেটে অন্তত ৩৫ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য বরাদ্দ থাকতে পারে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। 

বরাদ্দ হলে প্রথম ধাপে মূল বেতনের একাংশ বাড়ানো হবে। এরপরের অর্থবছরে বাকি অংশ এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে অন্যান্য সুবিধা শতভাগ বাড়বে। প্রথম ধাপে সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-সরকারি, বিচার বিভাগ ও বিভিন্ন বাহিনীর চাকরিজীবীরা তাদের বেসিক বেতনের ৫০ শতাংশ পাবেন। বাকি অংশ পরের দুই শিক্ষাবর্ষে কার্যকর করা হবে।

দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭-২৮ অর্থবছর বাকি ৫০ শতাংশ এবং তৃতীয় ধাপে ২০২৮-২৯ অর্থবছরে অন্যান্য ভাতা ও বাকি সুবিধা বাস্তবায়ন করা হবে। নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। আর পেনশন দিতে অতিরিক্ত লাগবে অন্তত ২৫ হাজার কোটি টাকা। সবমিলিয়ে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, তিন বছরের এই ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তের ফলে দেশের সামগ্রিক বাজারে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন করে কোনো চাপ পড়বে না এবং সরকারের নগদ অর্থায়ন ব্যবস্থাপনাও অনেক সহজ হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাবেক সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন পে-কমিশন সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিল। বেতন কাঠামোতে সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছিল। সর্বোচ্চ ধাপে ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে করার কথা বলা হয় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

যদিও পরে গঠন করা সচিব কমিটি সুপারিশ কাটছাঁট করে সব সুবিধায় সীমিত পরিবর্তনের পক্ষে মত দেয়। কুক-মালি-গাড়ি সংক্রান্ত ভাতা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কিছু সুবিধা অপরিবর্তিত রাখার কথা বলে কমিটি। এজন্য ব্যয় বাড়তি ১৬ হাজার কোটি কমে ৯০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে।

সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল। বেসামরিক প্রশাসন, জুডিশিয়াল সার্ভিস ও সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামো পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরির জন্য সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়।

গ্রেড সংখ্যা সরকারি চাকরির গ্রেড আগের মতোই ২০টি বহাল থাকছে। সর্বনিম্ন মূল বেতন হিসেবে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা করার জোর সুপারিশ রয়েছে (১০০% থেকে ১৪০% পর্যন্ত বৃদ্ধি)। অন্যদিকে সর্বোচ্চ মূল বেতন হিসেবে সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৬০,০০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

জানা গেছে, সুপারিশ অনুযায়ী মাসিক ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পেলে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। আর ৪০ হাজার টাকার পেনশনে বাড়তে পারে ৭৫ শতাংশ। এর বেশি পেনশনে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। বয়স ৭৫ বছরের বেশি হলে ১০ হাজার, ৫৫ থেকে ৭৪ ৮ হাজার এবং ৫৫ বছরের কম হলে ৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে মাসিক ২ হাজার টাকা, টিফিন ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার এবং বৈশাখী ভাতা ২০ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করেছে কমিটি। যাতায়াত ভাতা ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। 

সামরিক ও বিচার বিভাগের জন্য আলাদা বেতন কমিশনের কাজও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। প্রথম থেকে দশম গ্রেড পর্যন্ত বাড়ি ভাড়া কম হারে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে ১১তম থেকে ২০তম ধাপে এ হার বেশি হবে বলে সুপারিশে উল্লেখ আছে।

এসএইচ 

 

Link copied!