• ঢাকা
  • বুধবার, ২০ মে, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে অর্থমন্ত্রীর নতুন বার্তা 


নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২০, ২০২৬, ০২:৪০ পিএম
নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে অর্থমন্ত্রীর নতুন বার্তা 

ফাইল ছবি

সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১ জুলাই থেকেই শুরু হচ্ছে নবম জাতীয় পে স্কেল । অর্থনীতির বর্তমান কঠিন পরিস্থিতি ও বাজেটের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে পুরো সুবিধা একবারে নয়, বরং তিন অর্থবছরে ধাপে ধাপে এই নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর হবে।

নিজ কার্যালয়ে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সরকারের এই পরিকল্পনার কথা জানান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু অর্থাৎ ১ জুলাই থেকেই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন শুরু হবে এবং এটি কীভাবে সবচেয়ে উত্তম উপায়ে করা যায়, তা নিয়ে এখন চূড়ান্ত কাজ চলছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ১১ বছর পর কার্যকর হতে যাওয়া এই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী আগামী জাতীয় বাজেটে নতুন পে স্কেলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। তবে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও জিডিপির তুলনায় সন্তোষজনক রাজস্ব আহরণ না হওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি-র নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী তিন ধাপে এটি বাস্তবায়নের কৌশল নেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী জানান, বাজেটের সীমাবদ্ধতা ও কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বেতন কমিশনের সব সুপারিশ একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে কাটছাঁট করতে হলেও সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামোর বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও পে স্কেলের বিষয়টিই ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত রূপরেখা ঠিক করতে আগামী ২১ মে একটি বিশেষ বৈঠকে বসবে বাস্তবায়ন কমিটি।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বাজেটে প্রথম ধাপের জন্য প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হতে পারে। প্রথম ধাপে সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিচার বিভাগ ও বিভিন্ন বাহিনীর চাকরিজীবীরা তাঁদের মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবেন। এরপর দ্বিতীয় ধাপে অর্থাৎ ২০২৭-২৮ অর্থবছরে বাকি ৫০ শতাংশ মূল বেতন বৃদ্ধি কার্যকর করা হবে। সর্বশেষ তৃতীয় ধাপে ২০২৮-২৯ অর্থবছরে অন্যান্য সব ভাতা ও অতিরিক্ত সুবিধা পুরোপুরি নিশ্চিত করা হবে।

হিসাব অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এর সঙ্গে বাড়তি পেনশন বাবদ আরও ২৫ হাজার কোটি টাকাসহ মোট সম্ভাব্য ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।

এর আগে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন গত ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই সুপারিশ প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল। পরে বেসামরিক কর্মচারী, জুডিশিয়াল সার্ভিস ও সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামো বিশ্লেষণ করে বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশ তৈরির জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়।

প্রস্তাবিত নতুন কাঠামোতে গ্রেড আগের মতো ২০টিই রাখা হয়েছে, তবে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের বৈষম্য কমানো হয়েছে। সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। ফলে নতুন এই পে স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে যাচ্ছে।

এসএইচ 

Link copied!