• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

স্বর্ণালংকারপ্রেমীদের জন্য বাজেটে সুখবর


নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১১, ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
স্বর্ণালংকারপ্রেমীদের জন্য বাজেটে সুখবর

ফাইল ছবি

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের সোনা ও স্বর্ণালংকারপ্রেমীদের জন্য বড় ধরনের একটি স্বস্তির খবর আসছে। জুয়েলারি খাতে দীর্ঘদিনের দাবির মুখে এবার গহনা কেনাবেচায় বিদ্যমান ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, নতুন বাজেটে সোনা ও স্বর্ণালংকার কেনাবেচার ক্ষেত্রে বর্তমানে মোট বিক্রয়মূল্যের ওপর যে ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট বা মূসক চালু রয়েছে, তা পুরোপুরি তুলে দেওয়া হচ্ছে। এর পরিবর্তে ভরিপ্রতি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) নির্দিষ্ট ৫ হাজার টাকা ভ্যাট নির্ধারণের প্রস্তাব করা হচ্ছে। এর ফলে বাজারে উচ্চমূল্যের সোনার গহনা কেনার ক্ষেত্রে সাধারণ ক্রেতাদের ভ্যাট বাবদ আগের চেয়ে বেশ কম টাকা খরচ করতে হবে, যা সামগ্রিকভাবে গহনা কেনার খরচ কমিয়ে আনবে।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী তাঁর জীবনের প্রথম এই বাজেট প্রস্তাব পেশ করতে যাচ্ছেন। এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার এক বিশেষ বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল ও ঐতিহাসিক বাজেট প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এটি দেশের ইতিহাসের ৫৫তম জাতীয় বাজেট।

বাজেট নথি অনুযায়ী, বিশাল এই ব্যয়ের বিপরীতে আগামী অর্থবছরে সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে সামগ্রিক ঘাটতি বা ব্যবধান দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বাজেটের এই বিশাল ঘাটতি পূরণে বরাবরের মতোই অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাটতি মেটাতে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান খাত থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। অভ্যন্তরীণ উৎসের সিংহভাগ অর্থাৎ ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকাই নেওয়া হবে দেশের ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ হিসেবে। আর বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে সঞ্চয়পত্র বিক্রি ও অন্যান্য অ-ব্যাংক উৎস থেকে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একদিকে চড়া মূল্যস্ফীতির বাজারে ব্যাংক ঋণ ও ঘাটতির বড় চাপ থাকলেও, অন্যদিকে সোনা ও নিত্যপণ্যের বাজারে করের বোঝা পুনর্বিন্যাস করে সাধারণ মধ্যবিত্ত ও সাধারণ ক্রেতাদের মুখে হাসি ফোটানোর একটি মনস্তাত্ত্বিক চেষ্টা রয়েছে সরকারের প্রথম এই রাজনৈতিক বাজেটে।

এসএইচি 

Link copied!