• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

ক্যান্সারসেহ জটিল ৬ রোগের আক্রান্তরা পাবেন বছরে ১ লাখ টাকা


নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১১, ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম
ক্যান্সারসেহ জটিল ৬ রোগের আক্রান্তরা পাবেন বছরে ১ লাখ টাকা

ফাইল ছবি

অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে না পারা দেশের হাজার হাজার দরিদ্র ও অসহায় রোগীর জন্য বড় ধরনের মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ক্যান্সার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য সরকারি আর্থিক সহায়তার পরিমাণ এক ধাক্কায় দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন অর্থবছরে এসব জটিল রোগে আক্রান্ত প্রান্তিক রোগীদের জন্য এককালীন আর্থিক সহায়তা ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা বছরে একবার প্রদান করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই ঘোষণা দেন।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের ‘হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যক্রম’-এর মাধ্যমে অসহায় ও দরিদ্র রোগীদের এই জীবনরক্ষাকারী আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়ে থাকে। বাজেট প্রস্তাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থের অভাবে এসব জটিল রোগে আক্রান্ত অনেক রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারেন না। এতে রোগীরা যেমন চরম দুর্ভোগে পড়েন, তেমনি চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে অনেক পরিবার আর্থিকভাবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। দরিদ্র রোগীদের কল্যাণে পরিচালিত এই কর্মসূচিটি বিভিন্ন মহলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হওয়ায় সরকার সহায়তার অঙ্ক দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পেশ করা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রথম এই বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে সামগ্রিক বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

বাজেটের এই বিশাল ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান খাত থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের বড় অংশ অর্থাৎ ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকাই নেওয়া হবে দেশের ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ হিসেবে এবং বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আসবে সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য অ-ব্যাংক উৎস থেকে।

প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা। এ ছাড়া কড়া সামষ্টিক অর্থনৈতিক নির্দেশনার মাধ্যমে আগামী অর্থবছরে দেশের মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন অর্থমন্ত্রী।

এটি দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট এবং বর্তমান বিএনপি সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট উপস্থাপন। নিয়ম অনুযায়ী, সংসদে উপস্থাপনের আগে সকালে বাজেটটি মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে অনুমোদন করা হয় এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এতে সম্মতি সই দেন। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন অর্থবছরের এই বাজেট দেশব্যাপী আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে।

এসএইচ 

Link copied!