ফাইল ছবি
দেশের বেসরকারি বিনিয়োগ পরিস্থিতি চাঙ্গা করা এবং ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেটের অগ্রাধিকার নির্ধারণ ও সঠিক বাস্তবায়নে সরকার নীতিগতভাবে চারটি মূল বিষয়কে প্রধান বিবেচনায় রাখছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই নতুন পথনকশার কথা জানান।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী ঘোষিত সেই চারটি প্রধান বিবেচনা হলো-
১. ভ্যালু ফর মানি: সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ও সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা।
২. রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট: জনগণের করের টাকা যেসব প্রকল্পে বিনিয়োজিত হচ্ছে, সেখান থেকে দেশের মানুষ কতটা কার্যকর অর্থনৈতিক সুফল পাচ্ছে, তা কঠোরভাবে মূল্যায়ন করা।
৩. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: সরকারের প্রতিটি বিনিয়োগ যাতে সুনির্দিষ্টভাবে নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিশ্চিত করা।
৪. পরিবেশগত বিবেচনা: দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রাণ, প্রকৃতি ও পরিবেশ সুরক্ষার দিকে সজাগ ও সতর্ক দৃষ্টি রাখা।
বাজেট বক্তৃতায় দেশের অর্থনৈতিক সংস্কারের চিত্র তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার ইতিমধ্যে মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগীদের একচ্ছত্র আধিপত্য খর্ব করে একটি প্রতিযোগিতামূলক, উৎপাদনশীল, ন্যায়ভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মর্যাদাবান বাংলাদেশের ভিত রচনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই বাজেটে সরকারের সেই প্রাথমিক পদক্ষেপগুলোকেই অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে প্রতিফলিত করা হয়েছে।
বিগত সরকারের অসম অর্থনৈতিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা আত্মবিশ্বাসী যে, এই বাজেট দেশের উন্নয়নকে বৈষম্যহীন করবে, সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থানকে নিরাপদ ও শোভন করবে এবং রাষ্ট্রকে জনগণের কাছে জবাবদিহিতামূলক করে তুলবে। একই সঙ্গে সব শ্রেণি-পেশার নাগরিকদের এই উন্নয়নের অভিযাত্রায় সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আগামী এক বছরের একটি বলিষ্ঠ নীতি-পরিকল্পনা হিসেবে এই বাজেট কাজ করবে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, বিগত দিনগুলোর মতো কেবল ব্যয়ের উদ্দেশ্যে ঢালাও প্রকল্প না নিয়ে, রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট ও ভ্যালু ফর মানির মতো আধুনিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকগুলোকে মানদণ্ড ধরায় দীর্ঘ মেয়াদে দেশের উন্নয়ন বাজেটের অপচয় কমবে এবং সাধারণ মানুষ এর সরাসরি সুফল পাবে।
এসএইচ







































