• ঢাকা
  • বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

নিয়ন্ত্রণহীন এলপিজি বাজার, দাম বাড়িয়েও মিলছে না সিলিন্ডার


নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ১১:৩৯ এএম
নিয়ন্ত্রণহীন এলপিজি বাজার, দাম বাড়িয়েও মিলছে না সিলিন্ডার

ফাইল ছবি

সরকার নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করে তীব্র সংকট ও অস্বাভাবিক দামে বিক্রি হচ্ছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)। দেশের বিভিন্ন জেলায় খুচরা দোকানে ঘুরেও সিলিন্ডার পাচ্ছেন না সাধারণ ক্রেতারা। আর কোথাও পাওয়া গেলেও গুনতে হচ্ছে নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েকশ টাকা বেশি। এরই মধ্যে কমিশন বৃদ্ধিসহ নানা দাবিতে আগামী বৃহস্পতি ও শুক্রবার সারাদেশে এলপিজি বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে সংকট ও বাজারে অস্থিরতা আরও চরমে পৌঁছানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গত ৪ অক্টোবর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে। তবে বাজার বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেশের বিভিন্ন স্থানে এই ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতে ক্রেতাকে বিইআরসির নির্ধারিত দামের চেয়ে সর্বোচ্চ ৬৬৩ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দিতে হচ্ছে।

কক্সবাজার শহরের পাহাড়তলী এলাকার বাসিন্দা এমরান ফারুক অনিক দুই মাস আগে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনেছিলেন ১ হাজার ৭০০ টাকায়। মঙ্গলবার গ্যাস শেষ হলে নতুন সিলিন্ডার কিনতে গিয়ে তাকে দিতে হয়েছে ২ হাজার ২০০ টাকা। দুই মাসের ব্যবধানে একই পরিমাণ গ্যাসের পেছনে খরচ বেড়েছে ৫০০ টাকা। অনিক জানান, সীমিত আয়ের সংসারে অতিরিক্ত এই খরচের প্রভাব পড়বে দৈনন্দিন বাজার-সদাইয়ে। একই জেলা সদরের চায়ের দোকানদার সিজল দে-কেও দুদিন আগে ২ হাজার ২০০ টাকায় সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে। শহরের বাহারছড়া, কলাতলী, আলীর জাহালসহ বিভিন্ন এলাকায় একদিকে যেমন গ্যাসের তীব্র সংকট, অন্যদিকে চলছে বাড়তি দাম আদায়।

একই চিত্র দেখা গেছে নরসিংদী ও কিশোরগঞ্জে। নরসিংদীতে ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়। এছাড়া ৫ দশমিক ৫ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ২০০ টাকা, ২৫ কেজির সিলিন্ডার ৪ হাজার ২০০ টাকা এবং ৪৫ কেজির সিলিন্ডার ৭ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। স্থানীয় ফুডজোন রেস্টুরেন্টের মালিক রেজাউল করিম জানান, সপ্তাহখানেক আগে স্বাভাবিক দামে কিনলেও মঙ্গলবার পুরো শহরের কোথাও তিনি গ্যাস পাননি। অন্যদিকে কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা বিজন কুমার সরকার জানান, আগে ১ হাজার ৫৮৫ টাকার নির্ধারিত সিলিন্ডার ১ হাজার ৬৫০ টাকায় মিললেও এখন ১ হাজার ৮৩৭ টাকার সিলিন্ডারের জন্য ব্যবসায়ীরা চাওয়া শুরু করেছেন ২ হাজার ১০০ টাকা। 

বিদ্যমান এই পরিস্থিতির পেছনে সরবরাহ সংকটকে দায়ী করছেন খুচরা ও ডিলার পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা। এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির দাবি, গত ২০ সেপ্টেম্বরের পর আমদানিকারক কোম্পানিগুলো সরবরাহ প্রায় ৮০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বরের পর থেকে কয়েকটি ডিপো থেকেও সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

কক্সবাজার এলপি গ্যাস পরিবেশক সমিতির সভাপতি সিরাজুল হক জানান, ৬ অক্টোবর ডিলারের কাছ থেকেই তাদের প্রতি সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে ২ হাজার ৫০ টাকায়, যা সরকারের নির্ধারিত খুচরা মূল্যের চেয়েও বেশি। আবার বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করা হলেও কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে কোনো কেনাকাটার ভাউচার দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ জেলা এলপিজি সমিতির সভাপতি সরওয়ার আলমের।

তবে সরবরাহ ঘাটতির এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)। তাদের দাবি, দেশে এলপিজি আমদানি ও সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে। নির্ধারিত দামের বেশি নেওয়া হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানায়, বাজারে নিয়মিত তদারকি ও তদারকি জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে সংকটময় এই পরিস্থিতির মধ্যেই সারাদেশে দুদিনের এলপিজি বিক্রি বন্ধের ডাক দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি মো. সেলিম খান জানান, পরিবেশকদের কমিশন সিলিন্ডারপ্রতি ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা বা বিক্রয়মূল্যের ৭ শতাংশ করা, চালানে প্রকৃত মূল্য উল্লেখ করা, পরিবহন ভাড়া প্রদান এবং অযৌক্তিক জরিমানা বন্ধসহ তাদের ৬ দফা দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাবেন তারা।

বাজার-সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এমনিতেই সরবরাহের টানাটানিতে বাজার অস্থির, তার ওপর দুদিনের ধর্মঘট শুরু হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও সংকট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।

এসএইচ 

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!