ঢাকা : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করতে রাজনৈতিক দল ও অন্য অংশীজনদের সঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার একটি সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
এই বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং চারজন উপদেষ্টা উপস্থিত থাকবেন বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।
রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আজ বিকেল চারটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকের সময় ও স্থানের কথা জানিয়ে বুধবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
তবে এই বৈঠকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই বৈঠকে অংশ নেবে না বিএনপি। যদিও দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে, তারা এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তাই দলটি অংশগ্রহণ করবে কিনা তা জানতে অপেক্ষা বাড়ছে।
এদিকে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকের পরই কবে ঘোষণাপত্রটি দেওয়া হবে, তাও জানা যেতে পারে।
এর আগে গত মঙ্গলবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এই সর্বদলীয় বৈঠকের কথা জানিয়েছিলেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ‘বৃহস্পতিবার এই বৈঠকের ভেতর দিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি দলিল প্রণীত হবে। সে দিনই স্পষ্ট হবে, কবে ঘোষণাপত্রটি জারি করব এবং সরকার কীভাবে ঘোষণাপত্র জারি করার বিষয়ে ভূমিকা রাখবে।’
ছাত্রদের ঘোষণাপত্র অবলম্বনে গত ১২-১৩ দিনে উপদেষ্টা পরিষদ থেকে খসড়া ঘোষণাপত্র প্রস্তুত করার চেষ্টা করেছেন জানিয়ে মাহফুজ আলম তখন বলেছিলেন, এ নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অংশীজনের সঙ্গে তাঁরা কথা বলেছেন। বিএনপি, জামায়াত, নারী সংগঠন, শিক্ষকসংগঠন ও ছাত্রদের সঙ্গেও কথা বলেছেন। সবাই ঘোষণাপত্র দেওয়ার বিষয়ে একমত।
এদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র দেওয়ার জন্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির দেওয়া সময়সীমা গতকাল শেষ হয়েছে। সে প্রেক্ষাপটে এই দুটি সংগঠনের নেতারা গতকাল রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে তাঁদের কার্যালয়ে নিজেরা বৈঠক করেন।
বৈঠক শেষে রাত ১০টায় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে দুটি সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, তাদের দুটি সংগঠনের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার আহ্বানে সর্বদলীয় বৈঠকে অংশ নেবে। আলোচনা শেষে অবিলম্বে ঘোষণাপত্র করার তারিখ ঘোষণা করতে হবে। কোনো প্রকারের কালক্ষেপণ ও গড়িমসি হলে দ্রুতই সারা দেশের সর্বস্তরের ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলা হবে।
এমটিআই









-20261023105530-20261027104202.jpg)





























