ছবি: প্রতিনিধি
ভারতের হাইকমিশনার বাংলাদেশে এসে বন্ধুত্বের কথা বললেও ঠিক সেই দিনই মৌলভীবাজার সীমান্তে একজনকে হত্যা করা হয়েছে উল্লেখ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির আহ্বায়ক এবং বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মোঃ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে আর নদীতে বাঁধ দিয়ে কোনো বন্ধুত্ব হয় না। ভারতের আকাশ ও বাংলাদেশের আকাশ যেমন এক নয়, তেমনি ভারতের মাটি ও বাংলাদেশের মাটিও এক নয়। এ ফয়সালা ১৯৪৭ সালেই হয়ে গেছে যে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হবে।
আজ শনিবার বিকেলে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে এগারো দলীয় ঐক্যের ব্যানারে আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে এই সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ১৯৭১ সালে এবং ২০২৪ সালে পুনরায় ফয়সালা হয়েছে যে বাংলাদেশে কোনো আধিপত্যবাদী শক্তি থাকবে না। বাংলাদেশ কারো সাথে আপোষ করবে না, বরং মর্যাদার সাথে সম্পর্ক তৈরি করবে।
বাজেটে লুটপাটের পথ বন্ধ করা হয়নি উল্লেখ করে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আজ মন খারাপ। মন খারাপ করে কক্সবাজারে তিনি বলেছেন বিরোধীদল কেন বাজেটের সমালোচনা করে। তাঁর মন খারাপ দেখে আমাদেরও মন খারাপ, কারণ আমরা চেয়েছিলাম বাজেটের প্রশংসা করতে। কিন্তু আপনি দুর্নীতির রাস্তা বন্ধ করেননি, লুটপাটের পথ বন্ধ করেননি, ব্যাংক দখল বন্ধ করেননি। আমরা জানি না, এ বাজেটের কত টাকা জনগণের জন্য ব্যয় হবে, আর কত টাকা আপনার দলের নেতাকর্মীদের পকেটে যাবে। এই অবাস্তবায়নযোগ্য বাজেটের সমালোচনা আমাদের করতেই হবে।
ইসলামী ব্যাংক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংককে আবারও এস আলমের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে। আপনি যতই অস্বীকার করেন, বাংলাদেশের জনগণ ঠিকই জানে যে এস আলমকে কারা প্রটেকশন দিচ্ছে এবং কারা এস আলমের গাড়িতে সংবর্ধনা নিয়েছে। জনগণ এসব কখনো মেনে নেবে না।
বিদ্যুৎ খাতের সমালোচনা করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, বিদ্যুৎ এর দাম বাড়ানো হলেও জনগণ বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। কারণ এ সরকার আওয়ামী লীগের করা বিদ্যুৎ চুক্তি ও আদানির চুক্তি বহাল রেখেছে। আপনি এসব বিতর্কিত চুক্তি বহাল রাখবেন, ইসলামী ব্যাংক এস আলমের হাতে তুলে দেবেন, আর বিরোধী দলের থেকে প্রশংসা আশা করবেন—এটা অনেক বেশি আশা করা হয়ে যাবে। এ বাজেটের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির কোনো পরিবর্তন ঘটবে না।
সরকার আবারও পুরনো স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটছে বলে অভিযোগ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন করতে হলে আগে গণভোটের গণরায় অনুযায়ী পুলিশ, দুদক ও বিচার বিভাগ সংস্কার করতে হবে। পুলিশ সংস্কার না হওয়ায় গতকালই চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে ফেরার পথে জাতীয় ক্রিকেট দলের একজন খেলোয়াড়কে পুলিশ হেনস্থা করেছে। দেশের সর্বত্র এখন আগের মতোই বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন নেমে এসেছে। সরকার যদি স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটে, জনগণও তবে আবারও অভ্যুত্থানের পথে হাঁটবে। সংসদকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হচ্ছে এবং বিরোধী দলকে কথা বলতে দেয়া হচ্ছে না।
নতুন করে গজিয়ে ওঠা স্বৈরতন্ত্রকে শুরুতেই ঠেকিয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এগারো দলীয় ঐক্য মাঠে আছে। সরকারকে সর্বস্তরে জবাবদিহিতা আনতে হবে। জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও জনগণের বিপক্ষে এবং দুর্নীতির পক্ষে যারা যাবে, তাদের যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করা হবে।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ এগারো দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
এসএইচ







































