• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

 নব্য বিএনপি ও হাইব্রিডদের ভিড়ে কোণঠাসায় ত্যাগীরা


নিজস্ব প্রতিবেদক নভেম্বর ৩, ২০২৬, ০৫:১১ পিএম
 নব্য বিএনপি ও হাইব্রিডদের ভিড়ে কোণঠাসায় ত্যাগীরা

ফাইল ছবি

দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে চলা রাজপথের আন্দোলন, মামলার ঘানি টানা আর জেল-জুলুমের দুঃসহ নির্যাতন পেরিয়ে প্রায় চার মাস আগে রাষ্ট্রক্ষমতার মসনদে বসেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের শীর্ষ নেতারা এখন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী, সংসদ সদস্য কিংবা নীতিনির্ধারণী দায়িত্বে আসীন। রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক নানা কার্যক্রমে তাদের এই ব্যস্ততা স্বাভাবিক হলেও, এর উলটো পিঠে দলের তৃণমূল পর্যায়ে তৈরি হয়েছে এক গভীর হ্রদ ও স্থবিরতা। ক্ষমতার আলোছায়ায় সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি আজ ঘুরপাক খাচ্ছে নেতাকর্মীদের মুখে মুখে-ত্যাগ আছে, কিন্তু মূল্যায়ন কোথায়?

গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থেকেই পাল্টে গেছে রাজনৈতিক দৃশ্যপট। যে দলের চরম দুঃসময়ে, রাজপথের মিছিলে বা সমাবেশে গুটি কয়েক নেতাকর্মী ছাড়া কাউকেই খুঁজে পাওয়া যেত না, আজ যেন সেই দলেরই শুভানুধ্যায়ীর অভাব নেই। সুদিনের সুর বেজে উঠতেই দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের ভিড়ে হুট করে হাজির হয়েছে একশ্রেণির সুবিধাভোগী ও নব্য 'হাইব্রিড' নেতৃত্ব। দলের বিপদের দিনে যাদের আশপাশেও দেখা মেলেনি, ক্ষমতার পালাবদলের পর তারাই এখন নানা রঙের ব্যানার-ফেস্টুন আর তোরণে সয়লাব করে ফেলেছেন পুরো এলাকা।

মাঠপর্যায়ের খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নব্য গজিয়ে ওঠা এসব সুবিধাবাদীর দৌরাত্ম্যে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন বহু বছরের ত্যাগী কর্মীরা। অনেক স্থানেই পুরনো নেতাদের মূল্যায়ন না করে পকেট কমিটি কিংবা বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে নেতৃত্ব দখলের অভিযোগ উঠেছে। রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দখলদারির মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে এই বহিরাগতরা। ফলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি তৃণমূলের প্রকৃত কর্মীদের মাঝে দানা বাঁধছে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ।

অবশ্য এই অভ্যন্তরীণ সংকট নিয়ে দলের হাইকমান্ড শুরু থেকেই বেশ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও সিনিয়র নেতারা বারবার নেতাকর্মীদের অনুপ্রবেশকারী ও হাইব্রিডদের বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়ে যাচ্ছেন। শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কিছু নেতাকর্মীকে ইতিমধ্যেই দল থেকে বহিষ্কার কিংবা সাংগঠনিক শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যারা ১৭ বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে অবদান রেখেছেন, দল তাদেরই মূল্যায়ন করবে এবং কোনোভাবেই বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদী আন্দোলন সফল করার পর সরকারের সুচারু পরিচালনার পাশাপাশি সাংগঠনিক ঐক্য টিকিয়ে রাখা দলটির জন্য এখন অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। দেশের ৮২টি সাংগঠনিক ইউনিটের একটি বড় অংশের মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থা এবং থানা-ওয়ার্ড পর্যায়ে নিষ্ক্রিয়তা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।

দিনের পর দিন ঘাম ঝরানো ত্যাগী কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা না গেলে এবং নব্য সুযোগসন্ধানীদের দৌরাত্ম্য কঠোরহস্তে দমন করা না গেলে তা কেবল দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলই বাড়াবে না, বরং আগামীর স্থানীয় নির্বাচন ও সরকার পরিচালনায়ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তৃণমূলের এই চাপা ক্ষোভ প্রশমনে হাইকমান্ডের সুনির্দিষ্ট ও দৃশ্যমান পদক্ষেপই এখন দলটির নেতাকর্মীদের প্রধান প্রত্যাশা।

এসএইচ 

 

Link copied!