পুরান ঢাকার নিরাপত্তায় নতুন করে যে প্রশ্ন সামনে এলো
রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারের মনসুর খান প্লাজায় লাগা আগুন প্রায় সাড়ে ৩৭ ঘণ্টার চেষ্টায় পুরোপুরি নিভেছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোলরুম কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চকবাজারের আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ হয়।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ২ মিনিটে চকবাজারের ছোট কাটরা এসি মসজিদসংলগ্ন মার্কেটটিতে আগুন লাগার খবর পায় সংস্থাটি। বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পরে ধাপে ধাপে ইউনিটের সংখ্যা বাড়ানো হয়।
শেষ পর্যন্ত ১০ ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
সে সময় ফায়ার সার্ভিস জানায়, মার্কেটের ষষ্ঠ তলায় বিভিন্ন পণ্যের গুদাম ছিল। এসব গুদামের দরজা ও শাটার তালাবদ্ধ থাকায় ভেতরে প্রবেশ করে আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয় ফায়ার সার্ভিসের। তালা ও শাটার ভেঙে প্রবেশের পর আগুনের উৎস এবং বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়া আগুন মোকাবেলা করতে হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস আরো জানায়, আগুন নেভাতে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। পানির সীমিত উৎস এবং সরু রাস্তার কারণে পানিবাহী গাড়ি নিয়ে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় ধরে আগুন নেভানোর পাশাপাশি ভবনের বিভিন্ন অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে কাজ করেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
যে প্রশ্ন সামনে এলো
পুরান ঢাকায় আগুনের ভয়াবহতা নতুন নয়। পুরান ঢাকার চকবাজারে মুনসুর খান প্লাজার এই আগুন নতুন করে রাসায়নিক গুদাম, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, পাশাপাশি ভবন, সরু রাস্তা ও অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতি বিভিন্ন সময়ে বড় দুর্ঘটনার কারণ ও ঝুঁকিগুলো সামনে এনেছে। ২০১০ সালের নিমতলী, ২০১৯ সালের চুড়িহাট্টা, ২০২১ সালের আরমানিটোলা এবং ২০২৬ সালের চকবাজারের মুনসুর খান প্লাজার আগুন—প্রতিটি ঘটনাই পুরান ঢাকার অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
চকবাজারের ছোট কাটারা এলাকায় এসি মসজিদের পাশের মুনসুর খান প্লাজার ষষ্ঠ তলার একটি দোকানে সোমবার বিকেল ৫টা ২ মিনিটের দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিস খবর পায় বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে। প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে।
ফায়ার স্টেশন থেকে ঘটনাস্থলের দূরত্ব ছিল প্রায় দুই কিলোমিটার। কিন্তু যানজট ও সরু গলির কারণে সেখানে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ২০ মিনিট। পরে আগুনের ভয়াবহতা বিবেচনায় ইউনিটের সংখ্যা বাড়িয়ে ১০টি করা হয়। তবে অতিরিক্ত গাড়ি ঘটনাস্থলে নেওয়া এবং আগুনের কাছে পৌঁছানোও সহজ ছিল না। এই অগ্নিকাণ্ডে পরবর্তী সময়ে আগুন সামলাতে অনেকগুলো ফায়ার স্টেশনকে যুক্ত করা হয়।







































