• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১

আওয়ামী লীগের সামনে চার চ্যালেঞ্জ


বিশেষ প্রতিনিধি নভেম্বর ২০, ২০২৩, ১২:৪২ পিএম
আওয়ামী লীগের সামনে চার চ্যালেঞ্জ

ঢাকা : দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ৩০ নভেম্বর, যাচাই-বাছাই ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর এবং মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৭ ডিসেম্বর। নির্বাচনকে সামনে রেখে এরইমধ্যে মনোনয়ন বিক্রি শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। যদিও সরকারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত দলগুলো নির্বাচনের তফসিল প্রত্যাখ্যান করে ‘একতরফা নির্বাচন’ থেকে বিরত থাকার জন্য নির্বাচন কমিশনকে আহবান জানিয়েছে।

এদিকে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য দলীয় প্রস্তুতি শুরু করলেও নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটিকে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জের মুখেই পড়তে হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। যদিও দলের নেতাদের ভাষ্য হলো সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই নির্বাচনের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়েছে।

তাদের আশা, বিএনপিসহ বিরোধীদল না হলেও জাতীয় পার্টিসহ আরও অনেকগুলো দলের নির্বাচনী কার্যক্রম ২/১ দিনের মধ্যে শুরু হলে একটি ‘নির্বাচনমূখর’ পরিবেশ তৈরি হয়ে যাবে। গতকাল রবিবার (১৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রথম সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দাবি করেছেন যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সারাদেশের মানুষ ‘গণজাগরণের ঢেউ’ তুলেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বেসরকারি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিপপের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডঃ নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বলছেন, নির্বাচন সম্পন্ন করার আগেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে সরকারি দল আওয়ামী লীগকে।

তিনি বলেন, বিরোধীদলগুলোকে বাইরে রেখে নির্বাচন করাটাই বড় চ্যালেঞ্জ। এমনকি সেই নির্বাচন পর্যন্ত দেশকে নেয়ার মধ্যেও বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে আওয়ামী লীগকে। তারা কীভাবে সেটি সামাল দিতে চায় সেটিও দেখার বিষয়।

যদিও আরেকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জোবাইদা নাসরীন বলছেন, সরকারি দল হিসেবে আওয়ামী লীগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো নির্বাচনের জন্য সহিংসতা মুক্ত নিরাপদ ও আস্থার পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে নির্ভয়ে ভোট দেয়া সম্ভব হবে।

তবে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান বলছেন, প্রতিটি আসনে একাধিক প্রার্থীর অংশগ্রহণে নির্বাচন হবে জমজমাট এবং সে কারণে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ‘ভোট উৎসবে’ অংশ নিবে।

সহিংসতামুক্ত স্বস্তির পরিবেশ : নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধিতার জের ধরে গত ২৮ অক্টোবরের সমাবেশ পণ্ড হওয়ার পর থেকেই ধারাবাহিক হরতাল অবরোধের কর্মসূচি পালন করছে বিএনপিসহ অনেকগুলো ছোট বড় রাজনৈতিক দল। এসব কর্মসূচিকে ঘিরে বাসে আগুনসহ নানা ধরনের সহিংসতার ঘটনাও ঘটছে। বিএনপিসহ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনরত দলগুলো নির্বাচনের তফসিল প্রত্যাখ্যান করে ‘একতরফা নির্বাচন’ তারা মেনে নিবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি কেমন হয় তা নিয়ে উদ্বেগ আছে অনেকের মধ্যে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপিসহ বিরোধী দলের বর্জনের মধ্যে ব্যাপক সহিংসতাপূর্ণ পরিবেশ হয়েছিলো। সে কারণে ভোটের দিন কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিলো।

একতরফা নির্বাচনের অভিযোগ সামলানো : অনেকেই মনে করেন- আওয়ামী লীগের জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো অধিকাংশ দলকে নির্বাচনে এনে ‘একতরফা নির্বাচনের’ অপবাদ ঠেকানো।বিএনপি ও সমমনা দলগুলো বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে আসবে না। আবার দেশের চতুর্থ বৃহত্তম দল হিসেবে পরিচিত জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন নেই। ফলে এমনিতেই ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে এ দুটি জোট ও দলের অংশ নেয়ার সম্ভাবনা নেই।

দল ও জোটে সমন্বয় : সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দল ও জোটগত প্রস্তুতি নিলেও আওয়ামী লীগ, ১৪ দলীয় জোট, মহাজোট এবং নতুন গঠিত কিছু রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমন্বয় করে নির্বাচনের জন্য প্রার্থী চূড়ান্ত করাটা দলটির সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উঠে আসার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগ ১৪ দলীয় জোটকে সাথে নিয়ে নির্বাচন করতে আগ্রহী হলেও আগের নির্বাচনগুলোতে মহাজোটে থাকা কয়েকটি দল ছাড়াও নতুন গঠিত কয়েকটি দলও আওয়ামী লীগের সাথে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করতে আগ্রহী।

মূলত, বিএনপি না এলে নির্বাচনে আওয়ামী লীগই আবার ক্ষমতায় আসবে ধারণা থেকেই এসব দলগুলো আওয়ামী লীগের সাথেই গাঁটছড়া বেধে থাকতে আগ্রহী।

আন্তর্জাতিক চাপ সামাল দেয়া : নির্বাচনের আগেই সংলাপের মাধ্যমে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের চিঠির জবাব দিয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলই।

জবাবে বিএনপি আলোচনার পরিবেশ তৈরি সরকারের দায়িত্ব বললেও আওয়ামী লীগ বলেছে -এখন আর সংলাপের সময় নেই। কিন্তু এরপরেও নানাভাবে চাপ আসছে সরকার ও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ওপর।

শ্রমিক অধিকার হরণ হলে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।সেখানে বাংলাদেশের একজন শ্রমিক নেত্রীর নাম উচ্চারণ করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিশেষ কোন ইঙ্গিত দিয়েছেন বলেই মনে করেন অনেকে। সূত্র : বিবিসি বাংলা

এমটিআই

Wordbridge School
Link copied!