ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ার দাবি করে দেশটিতে বৃহস্পতিবার রাতের পূর্বনির্ধারিত হামলা এবং খারগ দ্বীপ দখলের পরিকল্পিত অভিযান আচমকাই বাতিল করেছেন।
দ্য নিউইয়র্ক পোস্টকে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার ব্যাপারে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চুক্তি ‘সব দিক থেকে প্রায় চূড়ান্ত’। তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্ব খসড়া চুক্তিতে ‘অনুমোদন’ দিয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, এই উইকএন্ডেই ইউরোপের কোথাও চুক্তি সই হবে; তিনি নিজে সেখানে উপস্থিত থাকতে না পারলেও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উপস্থিত থাকবেন।
এই চুক্তির শর্ত মেনে চললে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়বে, অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি আবার উন্মুক্ত হবে ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ৬০ দিনের নতুন আলোচনাপর্ব শুরু হবে।
বুধবার রাতেই কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের কাছে সম্ভাব্য চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া জমা দিয়েছিল ইরান—নিউইয়র্ক পোস্টে এমন খবর প্রকাশিত হওয়ার পরপরই ট্রাম্প এই ঘোষণা দিলেন।
নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া সংক্ষিপ্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘সবকিছু প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেছে।’
অবশ্য এর আগেও বেশ কয়েকবার ‘চুক্তি প্রায় হয়েই গেছে’ বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। এমনকি তার এই সর্বশেষ দাবিও ইতিমধ্যেই খারিজ করে দিয়েছে ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি।
তবে এ আলোচনার ব্যাপারে অবগত তিনটি নির্ভরযোগ্য সূত্র সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে বলেছে, বুধবার ইরানি কর্মকর্তা ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যকার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে দুই পক্ষের মূল মতপার্থক্যগুলো অনেকটাই ঘুচে এসেছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং তারা এতে অনুমোদন দিয়েছে। এই বাস্তবতার ভিত্তিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি আজ সন্ধ্যায় ইরানের ওপর পূর্বনির্ধারিত সব বিমান ও বোমা হামলা বাতিল করেছি।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান, বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডান, মিশরসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ চুক্তির প্রতিটি খুঁটিনাটি ও মূল ধারণায় সম্পূর্ণ সম্মতি দিয়েছে।’
নতুন এই চুক্তির বিস্তারিত রূপরেখা তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ্যে না এলেও ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, চুক্তি সই হলেই ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে প্রায় দু-মাস ধরে চলা মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া হবে।
পিএস







































