• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৪, ১৩ বৈশাখ ১৪৩১

সমকামিতায় বাধ্য করায় খুন হন বিএনপি নেতা


রাজশাহী প্রতিনিধি জুন ১৮, ২০১৯, ০৬:০৭ পিএম
সমকামিতায় বাধ্য করায় খুন হন বিএনপি নেতা

রাজশাহী: সমকামিতায় বাধ্য করার কারণে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম ৫৪) এক কিশোরের হাতে খুন হন। পুলিশ ইতিমধ্যে ১৬ বছর বয়সী ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে সে আদালতে এ তথ্য জানিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

সোমবার (১৭ জুন) বিকেলে ওই কিশোর আদালতে জবানবন্দি দেয়। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠান। মঙ্গলবার (১৮ জুন) দুপুরে রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ইফতেখায়ের আলম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

এদিকে এ ঘটনার সাক্ষী হিসাবে আরও তিনজন আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানান জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম।

গত ১১ জুন সকালে পুঠিয়ার কাঠালবাড়িয়া গ্রামের একটি ইটভাটা থেকে নুরুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নুরুল ইসলাম উপজেলার জিউপাড়া ইউনিয়নের ধোপাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ছিলেন। এছাড়া উপজেলা সড়ক পরিবহন ইউনিয়নের সাবেক সভাপতিও ছিলেন তিনি। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এই সংগঠনের নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি পরাজিত হন। শ্রমিক ইউনিয়নের দ্বন্দ্বে কারণে তিনি খুন হন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছিল। তবে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এলো ভিন্ন কারণ।

পুলিশ কর্মকর্তা ইফতেখায়ের আলম আলম জানান, নুরুল ইসলামকে হত্যার ঘটনায় তার মেয়ে বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। এ মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়।

মামলা দায়েরের পর জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত হন। তিনি তদন্ত শুরু করেন। এরপর গত রোববার নুরুল ইসলামের প্রতিবেশী ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে সব স্বীকার করে।

ওই কিশোর আদালতে তার জবানবন্দিতে বলেছে, প্রতিবেশী বলে সে নূরুল ইসলামকে নানা বলে ডাকত। কিন্তু নুরুল ইসলামের সমকামিতার বদ অভ্যাস ছিল। তিনি ওই এলাকার বিভিন্ন জনকে এ কাজে ব্যবহার করতেন। নুরুলের ফাঁদে পড়েছিল সে নিজেও। টাকার লোভ দিয়ে প্রায়ই নুরুল তার সঙ্গে সমকামিতা করতেন। এতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে তাকে বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন নুরুল। ফলে ওই কিশোর তার সঙ্গে যেতে বাধ্য হতো।

গত ১০ জুন রাতেও নুরুল ইসলাম ওই কিশোরকে সমকামিতার জন্য ইটভাটায় নিয়ে যান। সমকামিতার এক পর্যায়ে নুরুল ইসলাম মাটিতে পড়ে যান। তখন ওই কিশোর তার গলা টিপে ধরে। এরপর ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই নুরুলের মৃত্যু হয়। এরপর বাড়ি চলে যায় ওই কিশোর। সমকামিতায় বাধ্য করার কারণে তাকে হত্যা করা হয় বলে সে আদালতে জানিয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, ওই কিশোর একাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত নয়। আদালতে সে এ কথা বলেছে। মামলার তদন্ত শেষ। তাই দ্রুতই আদালতে এ মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

সোনালীনিউজ/এমএইচএম

Wordbridge School
Link copied!