বরগুনা: বরগুনা-১ আসনে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. ওয়ালিউল্লাহর একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচনী জনসভায় তিনি প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ভোট কাটতে আসলে মুগুর মেরে ঠান্ডা করে দেওয়া হবে। এমন বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে সৃষ্টি হয় তীব্র বিতর্ক।
জানা গেছে, শনিবার রাতে বরগুনার তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের লাউপাড়া বাজারে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ওই সময় তিনি আরও বলেন, ভোটকেন্দ্রে মা-বোনেরা চুলার আগুন ঠেলে দেয়া খোজদারার মাথায় জুতা এবং পুরুষরা মুগুর হাতে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। কেউ ভোট কাটতে এলে তাকে মুগুর দিয়ে ঠান্ডা করে দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেন।
তার এই বক্তব্যে তালতলীসহ আশপাশের এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, নির্বাচনের আগেই তিনি কীভাবে ভোট কাটাকাটির আশঙ্কার কথা জানলেন। তাদের মতে, এ ধরনের উসকানিমূলক ও ভীতিকর বক্তব্য নির্বাচনী পরিবেশকে অহেতুক অশান্ত করে তুলছে।
এ বিষয়ে একাধিক বিএনপি নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে গত ১৭ বছর ধরে বিএনপি ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে জনগণের ব্যাপক সাড়া দেখে পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে, যাতে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত হন। তারা ওই প্রার্থীর বক্তব্যকে নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ প্রসঙ্গে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, 'এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তা নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটির কাছে পাঠানো হবে এবং সেখান থেকে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পিএস