যেভাবে খুন করা হয় জামায়াত নেতাকে, প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় নির্মম হত্যার বিবরণ

  • নিউজ ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৯, ২০২৬, ১০:৩২ এএম

শেরপুরের শ্রীবরদীতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সংঘর্ষের একপর্যায়ে তাকে আলাদা করে ধরে মারধর করা হয় এবং পরে মাথার পেছনে ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়।

নিহত রেজাউল করিম শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ছিলেন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জামায়াত কর্মী ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন শ্রীবরদী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সাইফুল ইসলাম সালেহী জানান, সংঘর্ষের সময় কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে পেছনে পড়ে যান রেজাউল করিম। তখন বিএনপির একদল কর্মী তাকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর শুরু করে।

সাইফুল ইসলাম সালেহীর ভাষ্য অনুযায়ী, মারধরের একপর্যায়ে রেজাউল করিম নিথর হয়ে পড়লে তাকে টানাহেঁচড়া করে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আবারও মাথার পেছনে ইট দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয় এবং তিনি গুরুতর আহত হন।

তিনি জানান, আহত অবস্থায় প্রথমে রেজাউল করিমকে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে শেরপুর সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে তিনি মারা যান।

ঘটনার পটভূমি সম্পর্কে সাইফুল ইসলাম সালেহী বলেন, ঝিনাইগাতীতে আয়োজিত এক নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়েছিলেন জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল ও তার অনুসারীরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তাজনিত কারণে রাস্তা বন্ধ থাকার কথা জানিয়ে বিকল্প পথে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। একপর্যায়ে বাদল প্রশাসনের সঙ্গে অন্য পথে চলে গেলেও কয়েকজন কর্মী পেছনে পড়ে যান। তখনই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।

তার দাবি, হামলার সময় তিনি বারবার পুলিশকে হস্তক্ষেপের অনুরোধ করলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। পরে স্থানীয় যুবকদের সহায়তায় তিনি আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শেরপুর-৩ আসনের প্রার্থীদের নিয়ে উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে ইশতেহার পাঠের আয়োজন করা হয়। সামনের সারিতে বসাকে কেন্দ্র করে প্রথমে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়, যা দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকশ চেয়ার ও একাধিক মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। উভয়পক্ষের শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রেজাউল করিমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে বিএনপি ও তাদের সমর্থকরা জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, জামায়াত পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে ষড়যন্ত্র করছে।

এ বিষয়ে শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ভূঞা বলেন, জামায়াত নেতার মৃত্যুর খবর তারা পেয়েছেন এবং ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল জানান, ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে বসার জায়গা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ থেকেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এম