ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুরে ভোট কেনা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের দাঁড়িপাল্লা ও ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষ থেকে নগদ টাকা বিতরণের অভিযোগ তুলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ নির্বাচনী সংশ্লিষ্টদের জোরালো হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। সহিংসতা রোধে প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা প্রত্যাশা করেছেন দুই দলের দায়িত্বপ্রাপ্তরা।
তবে এ ধরনের কোনো অভিযোগ লিখিতভাবে দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন আসনটির সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগে দুপুরে লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম অভিযোগ করেন, বিএনপি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ভোটারদের টাকা দিয়ে প্রভাবিত করছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ১১ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ ছাড়াই দায়িত্বে সংযুক্ত করা হয়েছে।
রেজাউল করিম বলেন, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা জহির কাউন্সিলর ও যুবদল নেতা তানজিদ মজিদের বিরুদ্ধে নগদ টাকা দিয়ে বিএনপির পক্ষে ভোট কেনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন স্থানে তাঁদের মা-বোনদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে সকালে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়ক ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি জামায়াতের বিরুদ্ধে রাতের অন্ধকারে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকাসহ ঘর নির্মাণের প্রলোভন দেখানোর অভিযোগ তোলেন।
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে জামায়াতের এক সেক্রেটারি ভোটারদের নগদ টাকা দিয়ে ভোট কিনতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েন। পরে আর এ ধরনের কাজ করবেন না বলে অঙ্গীকার করলে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, জামায়াতের প্রার্থী রেজাউল করিম একাধিক স্থানে নগদ টাকা দিয়ে ভোট চেয়েছেন এবং ঘর নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়েছেন। এ ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চারজন ইউপি সদস্য বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিএনপি ও জামায়াতের পক্ষ থেকে ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণ করা হচ্ছে। পাল্লা দিয়ে তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছেন। পুরো জেলাতেই ভোট কিনতে টাকার ছড়াছড়ি চলছে বলে তাঁরা মন্তব্য করেন।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা বলেন, টাকা বিতরণ নিয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি দেখা গেছে। এরপরও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, নির্ধারিত সময়ের আগে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো এবং ভোটারকে নগদ অর্থ প্রদানসহ ঘর নির্মাণের আশ্বাসে দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাওয়ার সত্যতা পাওয়ায় রেজাউল করিমকে কঠোরভাবে সতর্কবার্তা দেয় নির্বাচন কমিশন। পুনরায় আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে বলেও জানানো হয়। গত ৬ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব (আইন-১) মোহাম্মদ দিদার হোসাইন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
এসএইচ