ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির ও বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসনের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম বলেছেন, নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং, জাল ভোট ও কেন্দ্র দখলের আশঙ্কা রয়েছে। ভোটের ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত তিনি শঙ্কামুক্ত হতে পারবেন না।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি, রাজনৈতিক সমীকরণ ও নিজের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নিয়ে বক্তব্য দেন হাতপাখা প্রতীকের এই প্রার্থী।
ফয়জুল করিম বলেন, জামায়াত তাঁকে ছাড়া অন্য কাউকে ভোট দেবে—এটি তিনি মনে করেন না। তাঁর ভাষ্য, জামায়াত আল্লাহর আইন চায়, তিনিও আল্লাহর আইন চান, তাই আদর্শগত কারণে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকেরা তাঁকেই ভোট দেবেন।
তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহারে ইসলামের বিষয়টি স্পষ্টভাবে নেই। ইসলামের পক্ষে আলাদা একটি নির্বাচনী বক্স চাওয়া হলেও তা রাখা হয়নি। এ কারণেই তাঁদের সঙ্গে জোট ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, ফলাফল ঘোষণার আগে নির্বাচনের মাঠ সঠিক আছে কি না—এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। ভোট শেষ হলেই প্রকৃত চিত্র বোঝা যাবে।
ফয়জুল করিম আরও অভিযোগ করেন, বরগুনায় ভোট চাইতে গিয়ে তাঁদের এক নেতাকে মারধর করা হয়েছে এবং পটুয়াখালীতে আরেক নেতার পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই ভোটের পরিবেশ নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। মানুষ যেন নির্ভয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। কেউ যেন ব্যালট পেপার কেড়ে নিয়ে ভোট দিতে না পারে—এ বিষয়েও প্রশাসনকে কঠোর হতে বলেন তিনি।
নিজের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে ফয়জুল করিম বলেন, যাকে নির্বাচিত করলে চাঁদাবাজি, গুন্ডামি ও মাস্তানি থাকবে না, তাকেই ভোট দেওয়া উচিত। তিনি নির্বাচিত হলে বরিশাল থেকে চাঁদাবাজি উৎখাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলে জানান। প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া, অসমাপ্ত উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করা এবং হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে শান্তিপূর্ণ বরিশাল গড়ার কথাও বলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বরিশালকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত করতে হাতপাখা প্রতীকে ভোট দিয়ে সৎ নেতৃত্বকে বিজয়ী করতে হবে।
এসএইচ