স্কুলের টাকায় হুইপকে স্বর্ণের কোট-পিন উপহার, সমালোচনার ঝড়

  • নাটোর প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: এপ্রিল ২০, ২০২৬, ০১:৪৮ পিএম
ছবি : প্রতিনিধি

নাটোর: নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় একটি বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে ধানের শীষ আকৃতির স্বর্ণের কোট-পিন উপহার দেওয়াকে কেন্দ্র করে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যালয়ের ফান্ড থেকে অর্থ ব্যয় করে এমন উপহার দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।

জানা যায়, উপজেলার শ্রীশচন্দ্র বিদ্যানিকেতনের বার্ষিক ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে হুইপকে এ স্বর্ণের কোট-পিন উপহার দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল এমরান খাঁন আনুষ্ঠানিকভাবে হুইপের কোটে পিনটি পরিয়ে দেন।

এ বিষয়ে সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রশ্ন উঠলে ইউএনও মো. আল এমরান খাঁন বলেন, “বিষয়টি মোটেও অ্যাপ্রোপ্রিয়েট নয়। আমি ওই অনুষ্ঠানে একজন অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলাম। হঠাৎ করে মাইকে আমার নাম ঘোষণা করা হয়। আমি আগে থেকে কিছুই জানতাম না।”

তিনি আরও বলেন, “আমি একটা বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে যাই। সবার সামনে এমন অবস্থায় পড়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। নিরুপায় হয়েই কাজটি করতে হয়েছে।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইয়াসিন আলী জানান, কোট-পিনটির জন্য প্রায় ২৮ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে এবং এই অর্থ বিদ্যালয়ের ফান্ড থেকেই নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “এটি একটি সংবর্ধনা। প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা সম্মান জানাতেই এটি করেছি।”

তবে পরে তিনি আরও বলেন, “হুইপকে সন্তুষ্ট করার জন্যই মূলত এটি দেওয়া হয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন হয়।”

তার এই বক্তব্য নতুন করে বিতর্ককে উসকে দিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে নৈতিকতা ও বিধি নিয়ে সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তার মাধ্যমে এ ধরনের উপহার প্রদান কতটা যৌক্তিক—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একইসঙ্গে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফান্ড, যা মূলত শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় হওয়ার কথা, তা দিয়ে মূল্যবান স্বর্ণের উপহার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও সমালোচনা হচ্ছে।
 
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। অনেকেই এটিকে  “প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা” হিসেবেও দেখছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু-এর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শ্রীশচন্দ্র বিদ্যানিকেতন একটি বেসরকারি এমপিওভুক্ত উচ্চ বিদ্যালয়। ১৯৪৬ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালে স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পাশাপাশি হুইপের পরিবারেরও সম্পৃক্ততা ছিল বলে জানা যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “স্কুলের টাকা দিয়ে এমন ব্যয় করা ঠিক হয়নি। এই টাকা শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে খরচ হওয়া উচিত ছিল।”

আরেকজন বলেন, “যদি ব্যক্তিগতভাবে কেউ উপহার দিত, সেটা ভিন্ন বিষয়। কিন্তু স্কুলের ফান্ড ব্যবহার করে স্বর্ণের উপহার দেওয়া প্রশ্নবিদ্ধ।”

পিএস