বরিশাল: দেশের ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার দায়িত্ব কাঁধে নিয়েই রাষ্ট্র সংস্কারে কাজ করে যাচ্ছে বর্তমান সরকার এমন মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচির অংশ হিসেবে বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় এ উদ্বোধন কার্যক্রমের এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, দুর্বল অবস্থায় থাকা রাষ্ট্রকে একটি শক্তিশালী ও টেকসই কাঠামোয় দাঁড় করাতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সেই লক্ষ্যেই ধারাবাহিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দেশের মাটির নিচে পর্যাপ্ত গ্যাস মজুদ থাকা সত্ত্বেও বিগত স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকার তা উত্তোলনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। পরিকল্পনার অভাব এবং হীন স্বার্থ রক্ষার কারণে গ্যাস খাতে স্বনির্ভরতা অর্জন সম্ভব হয়নি। ফলে আমদানি নির্ভর গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীলতা তৈরি হয়, যা বর্তমান জ্বালানি সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে এ পরিস্থিতির জন্য সাবেক সরকার দায়ী।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানির মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সংকট মোকাবিলায় সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দেশীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা, নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান এবং বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও বাস্তবায়নাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।
স্বাস্থ্যখাতের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি সকলকে টিকাদান কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, অবাধ তথ্যপ্রবাহের যুগে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অপতথ্য বা গুজব যেন ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পরিবেশনের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
জানা গেছে, বিভাগের আটটি উপজেলায় ১০ লাখ ৬২ হাজার ৫৪০ জন শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই কার্যক্রম ৮ হাজারেরও বেশি কেন্দ্রে পরিচালিত হচ্ছে। চলতি বছরে বরিশাল বিভাগে ১ হাজার ৯৯০ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং এর মধ্যে ১৯ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা টিকাদান কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পিএস